প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৬, ২০২৬, ৩:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১, ২০২২, ৬:১০ অপরাহ্ণ
নাটোরের বড়াইগ্রামের হারুনের কফিন বন্দী লাশ সৌদি থেকে বাংলাদেশে।

বড়াইগ্রাম,(নাটোর)প্রতিনিধিঃ
সংসারের চাকা সচল রাখতে ১৫ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার হারুন অর রশিদ (৪৫)। তাঁর হাড়ভাঙা পরিশ্রমে সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ ২৫ আগস্ট সৌদি থেকে তাঁর ছেলেকে ফোন করে বলা হয়, ‘ইয়োর ফাদার ইজ লস্ট।’ পরে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় হারুনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হয় তাঁর পরিবার। কিন্তু লাশ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবার। অবশেষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কফিনবন্দী হয়ে বাড়ি ফিরেছেন হারুন।
হারুন অর রশিদের ছেলে পারভেজ রশিদ বলে, তার বয়স যখন এক বছর, তখন গাড়িচালক বাবা সৌদি আরবে যান। ১৫ বছর ধরে তিনি সেখানকার একটি কোম্পানির গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আয় রোজগারও ভালোই ছিল। এই নভেম্বরেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। প্রতিদিন অন্তত একবার তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হতো। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। সৌদি থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছিলেন।
হঠাৎ ২৫ আগস্ট সৌদি থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়, ‘ইয়োর ফাদার ইজ লস্ট।’ পারভেজ ছুটে যায় নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের কাছে। তিনি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, হারুন আগস্টের মাঝামাঝি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৌদিতে মারা গেছেন। পুড়ে যাওয়া শরীরের কিছু অংশ সেখানকার মর্গে রাখা আছে। পরে দূতাবাসের আবেদনে সেখানকার কর্তৃপক্ষ লাশ ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়।
সেই থেকে পরিবারের লোকজন দিন গুনছিলেন। অবশেষে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ আজ সকালে বাংলাদেশ বিমানে ঢাকায় আসে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সন্ধ্যা ছয়টায় কফিনবন্দী হারুনের লাশ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার মালিপাড়া মহল্লার নিজ বাড়িতে আসে।
কফিনবন্দী হয়ে হারুন বাড়িতে এলেও একনজর দেখতে পাননি তাঁর স্বজনেরা। স্বজনেরা বলেন, আগুনে পুড়ে মৃত্যু হওয়ায় তাঁর শরীরের অধিকাংশ ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট দেহাবশেষ বিশেষ ব্যাগে করে আনা হয়েছে, যা দেখার মতো নয়। ছেলে পারভেজ রশিদ বিমানবন্দর থেকেই বাবার কফিন ধরে আছে।
নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী স্বামী হারুন অর রশিদকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তাঁর স্ত্রী পারভীন খাতুন। মঙ্গলবার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার মালিপাড়া মহল্লায় স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, সংসারের উন্নতির জন্য তাঁর স্বামী ১৫ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। এবার একমাত্র ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তিনি এই নভেম্বরে একবারে দেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। ফিরে এলেন, কিন্তু লাশ হয়ে।
ভাই আল আমিন জানান, তাঁর ভাই দীর্ঘদিন বিদেশে চাকরি করেছেন। কিন্তু মৃত্যুর পর তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা পরিবারকে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিমার টাকাও পরিবার পায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের দেখার অনুরোধ করেন তিনি।
বার্তা সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ-
মৌচাক,কালিয়াকৈর,গাজীপুর-১৭৫১
ইমেইলঃ shirsokhabor24@gmail.com
মোবাইলঃ ০১৭১২১৫২৬৮৫
আমাদের পরিবারে যুক্ত হতে দ্রুত যোগাযোগ করুন
Copyright © 2025-2026 শীর্ষ খবর. All rights reserved. Web Design: shirsokhabor media