বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক করে যেকোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জুলাই মাস থেকে আমি ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিরোধ, পুনর্গঠন, আইনের শাসন এবং পুনর্মিলনের রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক ধারাই ছিল এটি, এবং আমি অবিচলভাবে সেই ধারাই বহন করে চলেছি। জুলাই বা দেশপ্রেমের নামে সহিংসতা ও নৈরাজ্যের যেকোনো প্রচেষ্টা আমি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি। আমি একে বৈধতা দেব না, আবার এর কাছে আত্মসমর্পণও করব না।’
‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই—শহীদ মিনারে দেওয়া আমার বক্তব্য ছিল শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের এবং আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ও স্পষ্ট নিন্দা। একই সঙ্গে সেই বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই আমি পুনর্গঠনের পক্ষে, ধ্বংসের বিরুদ্ধে আমার দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
‘জুলাইয়ের প্রথম দিনগুলো থেকে শুরু করে আজ শাহবাগের এই সমাবেশ পর্যন্ত আমি ধারাবাহিকভাবে গঠনমূলক রাজনীতি, জবাবদিহির সঙ্গে স্বাধীনতা এবং আমাদের যৌথ মানবিকতা থেকে উৎসারিত সহমর্মিতার পক্ষে কথা বলে এসেছি। আমার অবস্থান ছিল স্পষ্ট, ধারাবাহিক ও অটল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ মানে উন্নত বিকল্প গড়ে তোলা—যেমন নিয়মভিত্তিক সমাজ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।’
‘তবে দুঃখজনকভাবে, শহীদ মিনারে দেওয়া আমার একটি মন্তব্য আমার প্রকৃত অভিপ্রায়ের বিপরীতে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেটি ছিল আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ এবং সর্বোপরি রূপক অর্থে বলা কথা। সেই দিনের মন্তব্যে যেসব সচেতন নাগরিক ব্যথিত হয়েছেন, তাঁদের সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক করতে চাই—ফাঁদে পা দেবেন না। কিছু চরম ডানপন্থী গোষ্ঠী ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমি সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে আহ্বান জানাই—পুরোনো রাজনৈতিক সমঝোতা, সহিংস ঐতিহ্য এবং ব্যর্থ রাজনৈতিক চর্চা থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক একটি রেখা টানতে হবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য প্রয়োজন গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি।’
‘বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে চরম ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান অবশ্যই প্রতিহত করতে হবে। এটি একটি জরুরি জাতীয় দায়িত্ব। আমি দায়িত্ব, দরদ, মর্যাদা ও গঠন—এই রাজনৈতিক নীতির ওপর দৃঢ়ভাবে অটল থাকব; অর্থাৎ দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, মর্যাদা এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ।’
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা জানিয়ে মাহফুজ লেখেন, ‘আমি দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক স্থাপনায় চালানো নৃশংস হামলার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে আমাদের সহযোদ্ধা নুরুল কবিরসহ যাঁদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও উসকানি চালানো হচ্ছে এটির তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক নীতিবান ও সাহসী কণ্ঠস্বর।’
‘আমাদের অগ্রযাত্রার পথ স্পষ্ট। আমরা বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নয়, বরং প্রতিরোধ, পুনর্গঠন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকারকে সম্মান জানাব। ফ্যাসিবাদ ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম শহীদ ওসমান হাদি অসমাপ্ত রেখে গেছেন, তা আমরা অব্যাহত রাখব—ইনশাআল্লাহ।’
‘আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সকল নাগরিককে এই সংকটময় সময়ে শান্ত, সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার অনুরোধ করছি।
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ শহীদ ওসমান হাদিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।’
বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক করে যেকোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।