“চব্বিশের আন্দোলনে হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সামলান”– ব্যারিস্টার ফুয়াদ
বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল-৩ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনের কথা মনে রাখতে হবে। হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন। তারেক রহমান সাহেব এখনো আপনার নেতাকর্মীদের সামলান। তাদের চর দখলের মনোভাব পরিহার না করলে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।”
ফুয়াদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিনে বাবুগঞ্জ এবং মুলাদিতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি এবং জালভোটসহ নানা অনিয়ম ঘটেছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, অস্ত্রের ভয় দেখানো, পেছনের গেট দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ এবং আধা ঘণ্টা ধরে সিল মারা–এর মতো ঘটনা নিয়মিত জানা গেছে। সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোটের সংখ্যা গণভোটের তুলনায় অস্বাভাবিক, যা ব্যালট স্টাফিংয়ের ইঙ্গিত দেয়।”
তিনি আরও জানান, “নির্বাচনে প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও র্যাবের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।”
ফুয়াদ বলেন, “বাবুগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্র দখল ঠেকাতে গিয়ে মুলাদির পরিস্থিতিতে নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় মুলাদিতে দ্রুত সেনা বা র্যাব পাঠানো সম্ভব হয়নি। অনেকে ভয় পেয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছেন এবং পরে ভিডিও পাঠিয়ে ব্যালট স্টাফিংয়ের ঘটনা জানাচ্ছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি, কোথাও পর্দা ছিল না, কোথাও প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ফুয়াদ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বহু নেতাকর্মী এখনো এলাকায় ফিরতে পারছেন না, ঘরে ঘরে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বাবুগঞ্জ-মুলাদির ৬১ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। তারা দেখেছেন আমাদের বিজয় কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই মানুষগুলো কি চুপ করে বসে থাকবে? অবশ্যই না। আমরা রাজপথে থাকবো, সরকারের সমালোচনা করবো।”
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



















