নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ দুই দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে। সরকারের বয়স এখন মাত্র ১৮ দিন। এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে বসছেন—এই প্রশ্নটি।
দলীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্র ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসাতে চায় বিএনপি। এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা-পর্যালোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইনজীবীর নাম উঠে এসেছে। সেখান থেকেই একজনকে জাতীয় সংসদের ১৩তম স্পিকার হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।
আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে আসছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন-এর নাম। আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান বিষয়ে দক্ষতা এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জয়নুল আবেদীন বর্তমানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর আইনজীবী হিসেবে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯৫৩ সালের ৭ জুলাই বরিশালের মুলাদীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রায় ৭৩ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইন পেশায় দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান তাকে স্পিকার পদের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক-এর নামও। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞতা ও আইনি দক্ষতার কারণে জয়নুল আবেদীনই এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বা এর দু-এক দিন আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে একজনকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় বিএনপি—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে প্রথম অধিবেশন পর্যন্ত।


















