
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের দোয়ারিকা এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীর ঘেঁষে ও লোকালয় সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা পরিবেশ দূষণকারী টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
গত ২৫ জুন বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. হাসানুল বান্না পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের পরিচালক এবং বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) মোট ১০ জনের কাছে “নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস” প্রেরণ করেন।
নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধ করে পরিবেশগত ক্ষতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে কারখানাটির কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে এবং কৃষিজমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার নজরে আসে এবং সংগঠনটি আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বেলার নোটিশে বলা হয়, ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’-এ পুরোনো টায়ার, টিউব ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে গ্রিন অয়েল, স্ক্র্যাপ ও ব্ল্যাক কার্বন উৎপাদন করা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী এ ধরনের প্রতিষ্ঠান “কমলা” শ্রেণিভুক্ত এবং আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে স্থাপন বাধ্যতামূলক। কিন্তু কারখানাটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং সুগন্ধা নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত দুইটির পরিবর্তে তিনটি রিয়্যাক্টর পরিচালনা করা হচ্ছে। কারখানায় আধুনিক ডাস্ট কালেক্টর বা সাকশন হুড না থাকায় বিষাক্ত ব্ল্যাক কার্বন সরাসরি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া কয়লার পরিবর্তে কাঠ ও তেল ব্যবহার এবং শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবও লক্ষ্য করা গেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি সুগন্ধা নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা নদীর পানি ও জলজ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং একাধিক শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে পূর্বে বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়ার কারণে স্থানীয় শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসজনিত সমস্যা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি শব্দ দূষণের কারণে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কারখানার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এটি স্থানান্তর এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছে বেলা।
অন্যথায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
বার্তা সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ-
মৌচাক,কালিয়াকৈর,গাজীপুর-১৭৫১
ইমেইলঃ shirsokhabor24@gmail.com
মোবাইলঃ ০১৭১২১৫২৬৮৫
আমাদের পরিবারে যুক্ত হতে দ্রুত যোগাযোগ করুন