জামাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি :
শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে শহর ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধূম পড়ে। শীত পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মওসুমে গ্রামীণ বধূরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীত পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর।
দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বাড়তে থাকে শীতের প্রকোপ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় শীত। যদিও এখনো উপজেলায় তেমন শীত লক্ষ্য করা যায়নি। তবে শীতের আগমন উপলক্ষে পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। এমন পরিবেশে শীতের পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে। বর্তমান সময়ে বাসায় পিঠা তৈরি করতে অনেকের সময় নেই। তাই শীতের বিকাল কিংবা সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে পিঠা খেতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানগুলোতে।
অনেকে পরিবার নিয়ে ছুটছেন এলাকার পরিপাটি পিঠার দোকানে। শীতের পিঠার চাহিদাকে কেন্দ্র করে অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পিঠাপুলির দোকান। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে মৌসুমি পেশা হিসাবে সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে পিঠা বিক্রি করছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সরেজমিন ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, গরম গরম ভাপা পিঠা নামছে মাটির চুলা থেকে। ক্রেতারা সারিবদ্ধ হয়ে পিঠা কিনছেন। কেউবা আবার পরিবারের জন্য বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ দাঁড়িয়ে পিঠা খাচ্ছেন। কোনো চুলায় ভাপাপিঠা, কোনোটিতে চিতই, কোনোটিতে ডিম বা অন্য কোনো পিঠা। শীত যতই বাড়ছে এসব পিঠাপুলির দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। দোকানগুলোয় পিঠার পাশাপাশি থাকছে হরেক রকম ভর্তা।
প্রতিদিন বিকাল থেকেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোয়। সন্ধ্যা হলেই বেড়ে যায় ক্রেতা সমাগম। রসুন-মরিচবাটা, ধনিয়াপাতা বাটা, শুঁটকি, কালোজিরা, সর্ষে ভর্তাসহ নানা রকম উপকরণ মিলিয়ে বিক্রি করা হয় চিতই পিঠা। এর মধ্যে ভাপা আর চিতই পিঠার কদর বেশি। প্রতিটি পিঠা বিক্রি হয় পাঁচ থেকে ১০ টাকা করে।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর মেন্দা বাজার এলাকার পিঠা বিক্রেতা কালাম হোসেন বলেন, বছরের এই সময়টা শীতকালীন পিঠার বিক্রি বেশি হয়।
বর্তমানে চিতই, ভাপা, বরাপিঠা, তেলের পিঠাসহ চার থেকে পাঁচ ধরনের পিঠা তৈরি করছেন। আর চিতই ও ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য থাকছে বাহারি পদের ভর্তা।
লাভও মোটামুটি ভালো।
পৌরসভার উত্তর মেন্দা এলাকার সজিব আলী বন্ধুদের সাথে পিঠা খেতে খেতে বলেন, শীতের সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ও ধনে পাতা ভর্তার স্বাদের তুলনা নেই। শীতে চুলার পাশে বসে পিঠা খাওয়ার যে ছবি আমাদের চোখে ভেসে ওঠে, জীবনে তার দেখা মিলবে কই। এরা আছে বলে একটু পিঠা খাওয়ার সুযোগ হয়।
কথা হয় পিঠা খেতে আশা ভাঙ্গুড়া পৌরসভার এস.আর পাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক হাসিনুর রহমান বাবু নামের এক ক্রেতার সাথে।
একান্ত আলাপচারিতায় তিনি শীর্ষ খবর কে বলেন, হঠাৎ করেই ‘সন্ধ্যার পরে একটু ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। প্রায় সময়ই তখন ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান থেকে আমি পিঠা খাই। শীতের সকালে মাটির চুলায় মায়ের হাতে বানানো ভাপা, চিতইসহ হরেক পিঠা খাওয়াটার সৌভাগ্য এখন আর খুব বেশি মানুষের হয় না। তবে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানে বানানো পিঠা খাওয়ার ধুম পরেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও পাড়া মহল্লায়।
সহকারী অধ্যাপক হাসিনুর রহমান বাবু আরো বলেন, উপজেলার বিভিন্ন মোড়গুলোতে এখন পিঠার ঘ্রাণ। এসব পিঠায় মায়ের আদর মাখা না থাকলেও আছে ব্যবসায়ীদের পরম যত্ন। রাস্তায় অলিগলি ও ফুটপাতে পছন্দের শীতের পিঠা খেতে পেরে খুশি উপজেলার মানুষগুলো



















