নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে শুরু করে সাব-রেজিস্ট্রার’র কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সেবাপ্রদানে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটানো কিংবা নকল নবিশ-দলিল লেখকদের মাঝে নবউদ্যমের সৃষ্টি। সেই সাথে সিটিজেন চার্টার-অভিযোগ বক্স তৈরী করে নজির স্থাপন করা ব্যাক্তিটির নাম রমজান খান।
একটি হল রুমের জন্য অফিস কর্মচারীদের নাভিশ্বাসের বিপরীতে সাব-রেজিস্ট্রার রমজান খান তার দেয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। হলরুম নির্মাণসহ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের রুপকার হয়ে উঠেছিলেন এই কর্মকর্তা। কিন্তু সরকারি চাকুরীর অমোঘ নিয়মে সেই হলরুম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন তিনি।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সকল কর্মচারীদের আয়োজনে উষ্ণ বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয় সাব-রেজিস্ট্রার রমজান খানকে। এসময় অনূভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে দুচোখ জলে ছলছল করে উঠে অফিস সংশ্লিষ্টদের।
নকল নবিশ মাহবুবুল হাসান মিস্টার জানান, বারবার মনে হচ্ছে স্যার নেত্রকোণায় না আসলেই বোধহয় ভালো হতো। এতোটা মায়ায় জড়িয়েছেন যে, এখন উনার অনুপস্থিতি আমাদের ভীষণভাবে পোড়াবে। আমি আর কিছুই বলতে পারছি না।
একান্ত আলাপচারিতায় অপর নকল-নবিশ মোঃ আব্দুর রাশিদ বলেন, স্যারের বদলির অর্ডারের খবরটা শোনার পর থেকেই সময়টা ভারী হয়ে গেছে। উনি একজন ক্ষমাশীল মানুষ। যতদিন বাঁচবো স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ হবে না আমার।
বিদায়ী সাব-রেজিস্ট্রার রমজান খান’র আপ্লুত কণ্ঠে নেত্রকোণার মানুষের জন্য শুধু কৃতজ্ঞতা-ই ঝরেছে। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই একজন মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন হতে চেয়েছি। এই অফিসে মুসলিমদের নামাজ পড়ার পাশাপাশি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। দুই ধর্মের জন্য একটি সহাবস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করেছি মাত্র। নেত্রকোণার মানুষগুলো সহজ-সরল স্বভাবের। যদি সুযোগ হয় তবে আবারো নেত্রকোণা আশার ইচ্ছে আছে।


















