ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা মামলায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তি দিয়েছেন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ফয়সালের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশ উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ফয়সালের বাবা-মা আদালতে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, আসামিরা হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদালতে তাদের বক্তব্য প্রদান করতে ইচ্ছুক। জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়।
এর আগে আসামিদের কয়েক দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয় স্বীকার করেন। পুলিশ এখনো প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে।
ঘটনার পটভূমিতে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ১৯ ডিসেম্বর মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।



















