নাটোরের গুরুদাসপুরে ড্রাগন বাগান করে সফলতার মুখ দেখেছেন শামিম রেজা। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু না হলেও এরই মধ্যে বাগানের চার প্রজাতির ড্রাগন ফল বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন ৭ লাখ টাকা। এ বাগানের ফল ও চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয়ের আশা তার।
জানা গেছে, শামিম রেজা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বামনকোলা গ্রামের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরে যাবার পরে কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না শামিম। অনেক ভেবে দেড় বছর আগে চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে ৪ হাজার ড্রাগন চারা রোপণ করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শামীম রেজার ড্রাগন বাগানে থরে থরে লাল, হলুদ ফল ঝুলছে। গাছের প্রতিটি শাখায় ফুলও শোভা পাচ্ছে। সেগুলো পরিচর্যা করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। জানালেন ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে এই পর্যন্ত ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলের পাশাপাশি তিনি চারাও উৎপাদন শুরু করেছেন। তার বাগানের ফল সুমিষ্ট ও সুস্বাদু এ কারনে চাহিদাও বেশ। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে ক্রেতারা বাগান থেকেই ফল কিনছেন। আকারভেদে প্রতি কেজি ফলের দর ৩০০ থেকে ৪০০।
শামিম রেজা বলেন, ঝুকি নিয়ে তিনি ড্রাগন চাষ শুরু করেছিলেন। বর্তমান উৎপাদনে তিনি খুশি। তাঁর বাগান দেখে অন্যরা ড্রাগন চাষে অনুপ্রানীত হচ্ছে। আশা করছেন চারা ও ফল বিক্রি করে তিনি মাসিক দেড় থেকে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারবো।
বামনকোলা গ্রামের সোহাগ আহমেদ বলেন, শামিম ভায়ের সফলতায় তিনি অনুপ্রানীত হয়েছি। চিন্তা করেছি নিজেও ড্রাগন বাগান করবো। ড্রাগন ফলের চাষ, চারা উৎপাদন ও ফল বিক্রি করে দ্রুতই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা সম্ভব।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান বলেন, এই উপজেলার মাটি ড্রাগন চাষের উপযোগী। এ ফল চাষে রোগ বালাই ও খরচ অনেক কম। বাগানের পাশাপাশি ফল ও কাটিং করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ড্রাগন চাষ করে বেকারদের স্বাবলম্বী হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।



















