এনামুল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি:
রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমানার রামনাথপুর বোর্ডের ঘর নামক স্থানে ২টি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের ত্রিমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলার রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা দুরামিঠিপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজিজুর রহমানের ছেলে আল-আমিন ও তার ৫ বছরের নাতি মাহিম নিহতসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। ৮ জুলাই শনিবার সকাল ১১ টা ২০মিনিটে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাতের সময় বর্ণিত স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহতদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রতন চন্দ্র শর্মা জানান, শনিবার সকাল ১১টা ২০মিনিটে কুড়িগ্রাম উলিপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৮৯৪ নম্বরের এনা পরিবহনের সাথে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাট গামী রংপুর ব ১১-০০৪২ নম্বরের অনিন্দ পরিবহন ও রংপুর থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী ঢাকা মেট্রো ট ২২-৫৪৯৬ নম্বরের ট্রাকের ত্রিমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এনা পরিবহন দ্রুতগতিতে ওভারটেকিং করতে গিয়ে প্রথমে অনিন্দ পরিবহনের সম্মুখভাগে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাককে ধাক্কা দিয়ে মহাসড়ক থেকে নিকটবর্তী মার্কেটের খাদে গিয়ে ছিটকে পড়েছে। এতে ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে উল্টে খাদে পড়ে যায়। অনিন্দ ও এনা পরিবহনের সম্মুখভাগ দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এনা পরিবহনের চালকের পিছনের সিটে বাবা ও মায়ের কোলে বসে থাকা শিশু ফাহিম ঘটনাস্থলে নিহত হয়। গুরুত্বর জখম প্রাপ্ত ফাহিমের বাবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন। মা মিথিলা বেগমকে আশংকজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মিথিলা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানান নিকটআত্বীয়রা। দুর্ঘটনার সময়ে বিকট শব্দ শুনে মৃহুর্তে সেখানে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা আরাম্ভ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ২টি ইউনিট, পীরগঞ্জ থানা ও বড়দরগাহ হাইওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।
এ সময় ঘন্টাখানেক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। শত শত যানবাহন সড়কের দুইদিকে আটকে পড়ে। পুলিশ পিকআপ,ফায়ার সার্ভিস এম্বুলেস ও ভ্যান-রিক্সা যোগে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এ সময় দুই বাসের যাত্রী মিথিলা,আবু হোসেন,গণি মিয়া,রেজাউল,আনোয়ার, সাজু মিয়া,বুলবুলি, রায়হান,নাজিফা ও সোহেলসহ ১০ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে পারভিন,হালিমা ও শামীমসহ ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও উজ্জল, আবিদ, খোকন,ওয়াহেদ, মশিউর,লাবু,সৌরভ,আরাফাত, জাহিদসহ প্রায় ২৫জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। অনেকে হাসপাতালে না গিয়ে বিভিন্ন ফার্মেসীতে ছেলা-জখমের চিকিৎসা নিয়েছে। পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ না থাকায় লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়নি। স্বজনরা আলামিন ও তার শিশু সন্তানের মরদেহ নিয়ে গেছে। দুর্ঘটনা কবলিত ২টি বাস ও ১টি ট্রাক বড়দরগাহ হাইওয়ে ফাঁড়িতে আটক রয়েছে।



















