উম্মে রাহনুমা রাদিয়াঃ
জাতি তৈরির কারিগররা এই মহৎকর্ম অব্যাহত রাখুক
কথায় আছে,শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। একটা জাতির শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। তারাঁ নানান বিষয়ে পাঠদান করে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে। জ্ঞান সভ্য মানুষ তৈরি করে। আর এই সভ্য মানুষ তৈরি করার কারিগরদের বিশেষ সম্মানের দিবস আজ।
এই মেরুদন্ডকে শক্ত করে গড়ে তুলতে যে মানুষটা কারিগরের ভূমিকায় থাকেন তিনি হলেন শিক্ষক।জ্ঞান ও মননশীলতা দিয়ে একটা জাতির অগ্রায়নের অগ্রদূত হিসেবে অবিরাম ছুটে চলেন তিনি।একজন শিক্ষক তার অর্জিত জ্ঞানকে আলোর মতো সরলরেখায় বিলিয়ে দিয়ে যান সর্বদা।অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ চলতে যেমন আলোর ভুমিকা অপরিসীম। তেমনি নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত,ভাঙা-চুরা,অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ গঠনে শিক্ষক সেই আলোক রশ্মি হিসেবে কাজ করে। তার জ্ঞানের দারুণ কারুশিল্পে ভাঙাচুরা বিধ্বস্ত সমাজটাকে পথ দেখায়,যেখানে তিনি তার সুনিপুণ দক্ষতা ও সঠিক নির্দেশনা দিয়ে গড়ে তোলেন বিবেকবান,মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানবআত্মা।’কবি আল্লামা ইকবাল’ যথার্থই বলেছেন,”শিক্ষক হলো একজন মিস্ত্রী যিনি গঠন করেন মানবআত্মা”।শুধুমাত্র মানবআত্মা গঠনই তার কাজ নই। মানবআত্মা গঠনের সাথে সাথে তিনি ভালোবাসা,স্নেহ,শাসন ও আগলে রাখার দায়িত্বেও তিনি সবর্দা অগ্রগামী।একজন শিক্ষার্থীকে রক্তের সম্পর্কের বাইরের আত্মিক সম্পর্কের মায়ায় জড়িয়ে রাখেন তিনি।
শিক্ষক দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষর্থীদের অনুভূতি তুলে ধরেছেন উম্মে রাহনুমা রাদিয়া –

ফারহানাঃ
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। আজ এই দিনে আমার শিক্ষকদের কথা না বললেই নয়। মাধ্যমিক পড়াশোনার সময় আমার এক শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন,”তুমি ভালো স্টুডেন্ট কিন্তু পড়াশোনা করতে চাও না। তুমি একটু চেষ্টা করলে অনেক ভালো কিছু করবে জীবনে।” সেই অনুপ্রেরণা আজ আমাকে এতোদূর নিয়ে এসেছে। গ্রামের একটা ছোট্ট স্কুল থেকে আজ এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সুযোগ পাওয়ার পিছনে আমার শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি। এই জাতি তৈরির কারিগর তাদের এই মহৎকর্ম অব্যাহত রাখুক।
ফারহানা,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
সেশন :১৯-২০

মরিয়ম আক্তারঃ
পিতা-মাতার পর একজন আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন শিক্ষক। কারিগর যেমন কাঁচা মাটিকে পূর্নাবয়ব মূর্তি তৈরি করেন ঠিক তেমনি শিক্ষক অতি সযত্নে আমাদের কাঁচা মনের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করেন। শিক্ষক কখনো কোমলরূপে আবার কখনো কঠোররূপে আমাদের সামনে উপস্থিত হোন। শিক্ষক যে রূপেই উপস্থিত হোক না কেনো এর পিছনে লুকিয়ে থাকে শিক্ষার্থীর প্রতি তাঁর অমায়িক ভালোবাসা এবং শিক্ষার্থীর সফলতার এক সুপ্ত অথচ তীব্র প্রত্যাশা। শুধু শিক্ষাঙ্গনে নয় , শিক্ষকের ব্যক্তিজীবন অনুসরণ করেও একজন শিক্ষার্থী নানাবিধ শিক্ষা গ্রহন করতে পারে , তৈরি করতে পারে নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে। সফলতা যদি কোনো মঞ্চ হয় তাহলে শিক্ষক হবে সেই মঞ্চে উঠার সিঁড়ি। মূলত শিক্ষকের হাত ধরেই সফলতার মঞ্চে আমাদের পথচলা। তাই আজ শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সকল শিক্ষকের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। আমরা ছাত্রসমাজ বরাবরই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
মরিয়ম আক্তার,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ।

খাঁন সোহানুর রহমান সোহানঃ
মা-বাবার পরে কোনো সন্তানের সাফল্যে যদি কোনো ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয় উৎফুল্লিত হয় তিনি হলেন শিক্ষক।মা-বাবা আমাদের প্রাথমিক ও পারিবারিক শিক্ষা দিলেও আমাদের জীবনের প্রতিটি সিড়ি পার হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায় শিক্ষক। শিক্ষার্থীর জ্ঞানের খালি মস্তিষ্ককে পূর্ণতা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। একজন শিক্ষার্থী যতই বড় হোক না কেনো তার এই সাফল্যের কারিগর শিক্ষকই। সেটা কখনোই মুছে ফেলা যাবে না। এজন্যই ‘হেনরি এ্যাডামস’ বলেছেন,”শিক্ষকের প্রভাব অনন্তকালে গিয়েও শেষ হয় না।”
শিক্ষক দিবসের এই ক্ষণে, আমার প্রাথমিক,মাধ্যমিক,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সকল শিক্ষককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও সম্মান প্রদর্শন করি।যারা আমাকে তাদের শাসন,ভালোবাসা স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছে সর্বদা তাদের সাথে যেন আমার এই আত্মার সম্পর্কটা বজায় থাকে আমৃত্যু এই দোয়া করি এবং আমার শ্রদ্ধাভাজন সকল শিক্ষকের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি সর্বদা।
খাঁন সোহানুর রহমান সোহান,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
২১-২২ শিক্ষাবর্ষ

সাকিব রহমানঃ
শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষকরা জাতির মস্তিষ্ক। তারা তাদের জ্ঞান দিয়ে আলোকিত করে সমাজের প্রতিটি স্তর। এবং শিক্ষকতা হচ্ছে মহান পেশা। সম্মানের জায়গায় থেকে শিক্ষকরা হচ্ছেন সবার ওপরে। ছাত্র শিক্ষক এর সম্পর্ক কখনও অন্য কোনও সম্পর্কের সাথে তুল্য নয়। শিক্ষক ছাত্রের জীবনে আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। যে ছাত্র এটা গ্রহণ করতে পারে তার জীবন আলোকিত হয়। ছোটবেলা কবি কাদের নেওয়াজ এর একটা কবিতা আমরা সবাই পড়েছি ‘শিক্ষকের মর্যাদা, এখানে শিক্ষককে রাষ্ট্র নায়কের চেয়েও ওপরে আসন দেয়া হয়, কারন শিক্ষক সবাইকে জ্ঞান দানে ব্রতী।
আজকের এই শিক্ষক দিবসে আমার জীবনের সকল শিক্ষকদের জন্য সশ্রদ্ধ সালাম ও কৃতজ্ঞতা।
সাকিব রহমান,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সেশন :২০২১-২২

তনিমা ইসলামঃ
আমরা অন্যান্য বিভিন্ন দিবস স্মরণ
রাখলেও এই দিবস টা তেমন একটা স্মরণ রাখিনা। আমাদের জীবনে শিক্ষকদের ভূমিকা কতোটা সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বাক্য দিয়ে বর্নণা করা সম্ভব নয়। শিক্ষক, যিনি আমাদের সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। আমাদের মধ্যে বিবেকের সৃষ্টি করে। আমাদের সমাজে বসবাসের উপযোগী করে তোলে। পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে কিভাবে নিজেকে সমাজের যোগ্য করে তুলতে হবে সেসব শিক্ষা আমরা শিক্ষকদের থেকেই পেয়ে থাকি।
আমার জীবনে আমি অনেক শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি। সেই স্কুল জীবন থেকে শুরু করে আজ বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পযর্ন্ত আমার সকল শিক্ষকদের আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যে তারা আমাকে সমাজে বসবাসের উপযোগী করে তুলেছেন এবং আমাকে মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। আশাকরি, আমি তাদের শিক্ষা নিজের মধ্যে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাব এবং এমন কোন কাজ করবোনা যাতে আমার শিক্ষকদের বা তাদের দেওয়া শিক্ষার অসম্মান হয়, ইনশাআল্লাহ।
তনিমা ইসলাম,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
সেশন :১৯-২০


















