শাহজাহান আকন্দ,স্টাফ রিপোর্টার:
একাত্তরে পাকসেনারা নরসিংদী, মনোহরদীর সাগরদী বাজারের আব্দুল মোতালিবের চায়ের দোকানটি অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেয় পাকসেনারা । ঘটনাটি সইতে পারেননি মনোহরদীর নরেন্দ্রপুর গ্রামের পাগলাটে যুবক নূর আলীর পুত্র আঃ হাই মীরধা। তিনি তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে খালি হাতেই এক পাকসেনাকে ঝাপটে ধরে মাটিতে শুইয়ে দেন।সে অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা হারুন ও তারা রশীদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন তিনি।পাকসেনার সাথে সেখানে প্রচন্ড ধ্বস্তাধস্তি হচ্ছিলো তার।কোনভাবেই আঃ হাইয়ের বজ্র বেষ্টনী থেকে মুক্ত হতে পারছিলো না পাকসেনাটি।শেষ পর্যন্ত আঃ হাইকে গুলি করে হত্যা করে পাকসেনাটিকে মুক্ত করতে সমর্থ হয় তার সঙ্গীরা। নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল কাদির জানান, অদূরের ঘন ডালপালাযুক্ত একটি কাঁঠাল গাছে চড়ে সেদিনের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি।সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী নরেন্দ্রপুরের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা শাহাবুদ্দীন মীরধা,সুরুজ মিয়া,জালাল উদ্দীন,ও বীর আহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের বর্ননাও এ বিষয়ে প্রায় অভিন্ন।তারা আরো জানান, মরার পরও পাকসেনাটির খাকি পোশাকের ছেঁড়া অংশ নরেন্দ্রপুর গ্রামের অকুতোভয় যুবক আঃ হাই মীরধার মুঠোতেই ধরা ছিলো।এলাকাবাসী আঃ হাই মীরধার সেদিনের হত্যাকান্ড স্থলটি সুস্পষ্টভাবেই দেখিয়ে দিলেন। সাগরদী বাজারের ভেতরে সেখানে একটি বটবৃক্ষের চারা রোপিত রয়েছে।নরেন্দ্রপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নিভৃতে শুয়ে আছেন দেশ মাতৃকার এক অকৃত্রিম প্রেমিক।সরকারের কাছে আব্দুল হাই মৃধার বীরত্বের যথাযথ স্বীকৃতি দাবী করেছেন তার পরিবার।এ ছাড়া অধ্যক্ষ মতলব হোসেন মুকুল,কামরানুর রশীদ তুহিনসহ স্থানীয় অরাজনৈতিক সংগঠন নীলাচলে কলা বিতান ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও একই দাবী উত্থাপিত হয়েছে সরকারের কাছে।


















