মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে গণমাধ্যম, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির জন্য এখনো কোনো বিশেষ নির্দেশনা না থাকায় এসব যানবাহনের চলাচল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারতের আসাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। মঙ্গলবারই পাঁচ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম মজুত নিয়ে দেশের চাহিদা মোকাবিলায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে জ্বালানি বিভাগ।
এ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় বিভিন্ন যানবাহনের জন্য জ্বালানি বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।
টেলিভিশন স্টেশন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জরুরি সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জেনারেটর চালানোর প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক যানবাহনও তরল জ্বালানিনির্ভর। কিন্তু তেলের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।
জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ির চালকেরা জানান, তেলের পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো পাম্পে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। অনুরোধ করলে কোথাও কোথাও দুই-এক লিটার অতিরিক্ত দেওয়া হয়।
অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা অন্যান্য জরুরি সেবাদাতা সংস্থার যানবাহনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রয়োজন হলেও অধিকাংশ পেট্রল পাম্পের প্রতিনিধিরা জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে আলাদা কোনো নির্দেশনা নেই। তবে মানবিক কারণে কোনো কোনো পাম্পে জরুরি সেবার যানবাহনকে বাড়তি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান রেশনিং ব্যবস্থা সরকার চাইলে পুনর্বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের জন্য জ্বালানির বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের আসাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সূত্র জানায়, ভারত থেকে ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম সোমবার রাতেই শুরু হয়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরিভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানির ফলে পরিবহন খরচ ও সময়ও সাশ্রয় হবে।
এর আগে রোববার জ্বালানি সংকট নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই বৈঠকে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় পাঁচ হাজার টনের প্রথম চালান দেশে আসছে।


















