বিদেশ-ফেরত কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে সরকারি দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা জরুরি: বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন
বরিশাল প্রতিনিধি: বিদেশ-ফেরত অভিবাসী কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে সরকারি দপ্তরগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল আলম সুমন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
BRAC মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আয়োজনে এবং সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় “প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের জন্য রেফারেল পথনির্দেশনা ও সেবা সংযোগ” শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের দায়িত্ব। লোভে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ না গিয়ে দক্ষ হয়ে সঠিক প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি দেশে ফেরার পর তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারি দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, বিদেশ যাওয়ার সময় অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়ালেও ফেরার পর অনেকেই তাঁদের সহজে গ্রহণ করতে চান না। বিদেশ-ফেরত এই মানুষদের পুনরেকত্রীকরণের লড়াইয়ে ব্র্যাকের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, প্রায় ৪৮ শতাংশ অভিবাসী মানসিক ট্রমা নিয়ে দেশে ফেরেন। তাই তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন খান। তিনি বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রকল্পের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ও রেফারেল পথনির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুনরেকত্রীকরণ কেবল আর্থিক সহায়তা নয়; এটি একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে সামাজিক ও মানসিক মর্যাদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাহাবুদ্দীন সরদার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. আখতারুজ্জামান তালুকদার এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক এ.কে.এম. সাহাবুদ্দিন আহমেদ। এ সময় টিটিসি, বিসিক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশ-ফেরত কর্মীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে প্রশিক্ষণ, মনোসামাজিক সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।



















