নাটোর প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সর্বমোট ১৫টি এড়ে গরু নিয়ে নিজ বলাইল গ্রাম হতে ভাড়াকৃত ট্রাকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মেরুল বাড্ডা, আফতাব নগর, ঢাকা কোরবানীর পশুর হাটে যায়। গরুগুলো বিক্রয় করে সর্বমোট ১৪,০১,৫০০/- (চৌদ্দ লক্ষ এক হাজার পাঁচশত) টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে গত ইং ২৭/০৬/২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত্রী অনুমান ১১.১০ ঘটিকার সময় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অপেক্ষামান অবস্থায় একটি ত্রিপল বেষ্টিত ট্রাক এসে গাড়ি থামিয়ে ভিকটিমদের জিজ্ঞাসা করে আপনারা কোথায় যাবেন? ভিকটিমগণ উত্তর দেই যে, বগুড়া যাব। হেলপার বলে তারাও গরুর ব্যাপারী নিয়ে রংপুর যাবে। এরপর ভিকটিমগণ জনপ্রতি ৫০০/- টাকা ভাড়া মিটিয়ে উক্ত ট্রাকের পিছনে উঠে বসে। ট্রাকটি চান্দুরা এলাকায় আসার পর পূর্ব থেকে ট্রাকে থাকা অজ্ঞাতনামা লোকেরা নিজেদেরকে ডাকাত বলে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমগণদের আক্রমণ করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায় ও ভিকটিমদের নিকটে থাকা গরু বিক্রয়ের টাকা না দিলে খুন করবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ছদ্মবেশ ধারণকারী ডাকাতদল ভিকটিমদের নিকট থাকা গরু বিক্রয়ের টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করলে ভিকটিমগণ টাকা দিতে না চায়লে ডাকাতদলের সদস্যরা ভিকটিমদের ঝাপটে ধরে জোর পূর্বক গামছা ও লুঙ্গি দ্বারা তাদের দু-হাত, দু-পা বেঁধে ফেলে ও মুখে কসটেপ দিয়ে আটকিয়ে ট্রাকের ভেতর ফেলে বাঁশের লাঠি দ্বারা এলোপাথারীভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা, ফোলা, কালশিরা ও রক্তজমাটবাধা জখম করে এবং ভিকটিমদের নিকট হতে তাদের কাছে থাকা এবং গরু বিক্রয়ের টাকাসহ সর্বমোট নগদ ১৪,১২,৮০০/- (চৌদ্দ লক্ষ বার হাজার আটশত) টাকা এবং ভিকটিমদের ব্যবহৃত ০৪ (চার) টি মোবাইল ফোন জোর পূর্বক লুন্ঠন করে। কিন্তু ভিকটিম শহিদুল ইসলাম ঐ সময় ডাকাতদের তার নিকটে থাকা গরু বিক্রয়ের টাকা দিতে না চাইলে ডাকাতগণ শহিদুল ইসলামকে মারপিট করে তার বাম পাজরে, মুখে ও ঘাড়ে জখম করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ডাকাতদল শহিদুল ইসলাম এর মৃতদেহ সুবিধাজনক স্থানে ফেলতে না পেরে ভিকটিমগণ এবং ভিকটিম শহিদুলের মৃতদেহ নিয়ে সারারাত ও সারাদিন ট্রাকে করে ঘুরতে থাকে। গত ইং ২৮/০৬/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত্রী অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের মান্নান নগর হতে চাটমোহর গামী রাস্তায় হান্ডিয়াল নামক স্থানে ভাঙ্গা ব্রীজের অনুমান ১০০ গজ সামনে হিজল গাছের নিচে চলন্ত ট্রাক থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ভিকটিম আঃ সালামকে ফেলে দেয়। অতঃপর ডাকাতদল একই তারিখ রাত্রী অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় বড়াইগ্রাম থানাধীন বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে আগ্রান ফিলিং স্টেশন এর পশ্চিমে ৮নং ব্রীজের নিকট পাকা রাস্তার উত্তরপার্শ্বের ঢালে হাত পা বাঁধা অবস্থায় শহিদুলের মৃতদেহ এবং ভিকটিম মোঃ নূর আলম, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ ইউনুছ আলী গণদের ফেলে দেয় এবং ট্রাক নিয়ে ডাকাতদল চলে যায়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার মামলা নং-৩৫/১৮৯, তারিখ-২৯ জুন, ২০২৩; ধারা-৩৯৬ পেনাল কোড রুজু হয় এবং মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই (নি:) মোঃ আকরামুজ্জামান, বড়াইগ্রাম থানা, নাটোর নিযুক্ত হন।
উক্ত ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার পর জনাব মোঃ সাইফুর রহমান পিপিএম, পুলিশ সুপার, নাটোর মহোদয় এর সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জনাব এ.টি.এম মাইনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), নাটোর, জনাব মোঃ শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপস্), নাটোর মহোদয়দ্বয়ের তদারকি ও জনাব মোঃ শরীফ আল রাজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বড়াইগ্রাম সার্কেল, নাটোর মহোদয়ের নেতৃত্ব ও অপারেশন পরিকল্পনায় তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করেন। তাৎক্ষনিকভাবে জনাব মোঃ আবু সিদ্দিক, অফিসার ইন-চার্জ, বড়াইগ্রাম থানা, নাটোর এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি:) মোঃ আকরামুজ্জামানসহ এস আই সত্যব্রত, এস আই দেবব্রত, এস আই খলিলুর রহমান, এস আই কামরুজ্জামান, এস আই আঃ জব্বার, এসআই আঃ বারেক ও এএসআই শহিদুল ইসলাম বড়াইগ্রাম থানা, নাটোরদের সমন্বয়ে গঠিত পৃথক পৃথক টীম তথ্য প্রযুক্তি সহায়তা এবং বিশ্বস্ত সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বড়াইগ্রাম সার্কেল, নাটোর এর নেতৃত্বে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তদন্তে প্রাপ্ত ঘটনার সাথে জড়িত ডাকাতদলের সদস্য ১) মোঃ ইনদাদুল (২৭), পিতা-মৃত মহরম, সাং–কদিমচিলান, থানা–লালপুর, জেলা–নাটোর, ২) মোঃ আরিফ (২৫), পিতা-মোঃ আবু হানিফ, সাং-মানিকপুর পশ্চিমপাড়া, ৩) মোঃ মিঠুন (২৮), পিতা-মোঃ আঃ মান্নান, সাং-মানিকপুর টুনিপাড়া, ৪) মোঃ শাহ আলম (২৪), পিতা-মোঃ ময়েজ, সাং-মানিকপুর পশ্চিমপাড়া, ৫) মোঃ রুবেল (৩২), পিতা-মৃত আঃ কুদ্দুস, সাং-মানিকপুর পশ্চিমপাড়া, ৬) মোঃ সোহাগ (২৫), পিতা-মোঃ লুৎফর, সাং-গোপালপুর মধ্যপাড়া, ৭) মোঃ সুজন (৩০), পিতা-মোঃ লুৎফর, সাং-গোপালপুর মধ্যপাড়া, ৮) মোঃ রেজাউল (৩৫), পিতা-মোঃ সেকেন্দার, সাং–দায়িরপাড়া, র্সব থানা-বড়াইগ্রাম, জেলা-নাটোর এবং ৯) মোঃ রসুল (৩২), পিতা-মোঃ আঃ রাজ্জাক, সাং-চকদিঘরী (গুচ্ছগ্রাম), থানা-গুরুদাসপুর, জেলা-নাটোর গনদেরকে গ্রেফতার করেন। ডাকাতদলের সদস্যদের নিকট হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ০১ টি ট্রাক যার মডেল TATA-১৬১৫, চ্যাসিস নং-MAT39501592R09296, ইঞ্জিন নং-6BT145HP90F62766158, রেজিঃ নং কুষ্টিয়া-ট– ১১-১০৪৩, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ও ডাকাতদলের সদস্যদের নিকট হতে উদ্ধারকৃত ৪,৯৫,০০০/- (চার লক্ষ পঁচানব্বই হাজার ) টাকা, ভিকটিমদের লুষ্ঠনকৃত ০১ (এক) টি মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার, লুণ্ঠিত টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার সংক্রান্তে অদ্য ০৪২-০৭-২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ সময় ১২.০০ ঘটিকায় পুলিশ সুপার এর কার্যালয়, নাটোরে সাংবাদিকদের মাঝে প্রেস ব্রিফিং করেন জনাব মোঃ সাইফুর রহমান পিপিএম, পুলিশ সুপার, নাটোর।



















