কারাগারে থাকা জাপা প্রার্থীর কন্যা ফারিয়ার অভিযোগ, ভোটভীতি ছড়াচ্ছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ
রুবেল সরদার, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের নির্বাচনী মাঠে চলছে ভিন্ন এক লড়াই। একদিকে রাজনৈতিক কৌশল ও সমীকরণ, অন্যদিকে কারাবন্দি বাবার পক্ষে রাজপথে নেমে পড়া কন্যার নিরলস প্রচেষ্টা।
প্রায় এক বছর দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। তিনি বরিশাল–৩ আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। জামিনের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার মুক্তি মেলেনি। কারাগারে থেকেই এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন।
বাবার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তার কন্যা হাবিবা কিবরিয়া ফারিয়া। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রোদ–ধুলো উপেক্ষা করে তিনি হাট, বাজার এবং গ্রাম্য সড়ক ধরে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। বাবার মুক্তি ও লাঙল প্রতীকের বিজয়ের আহ্বান জানিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট ও বাবুগঞ্জ বাজার এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন হাবিবা কিবরিয়া ফারিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইকবাল হোসেন তাপস। গণসংযোগকালে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফারিয়া অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে না যান। তিনি দাবি করেন, ভোট দিতে গেলে মারামারি হবে, হাত–পা ভাঙে দেওয়া হবে—এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের পোলিং এজেন্ট এবং যারা প্রচারণায় যুক্ত আছেন, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে না। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনা যদি খেলতে নামে আর মেসিকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়, তাহলে সেটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলা যায় না।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফারিয়া বলেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলকেও জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাবার কারাবাস প্রসঙ্গে হাবিবা কিবরিয়া ফারিয়া বলেন, তার বাবা গোলাম কিবরিয়া টিপু কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন এবং তিনি সন্দেহজনক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে মানবিক বিবেচনায় অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিতে পারে। নির্বাচনকালীন ১০ থেকে ১২ দিনের জন্য মুক্তি দেওয়া হলে নির্বাচন শেষে পুনরায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে সে পথেও সরকার এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ভিড়ে হাবিবা কিবরিয়া ফারিয়ার প্রচারণা বরিশাল–৩ আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কারাগারে থাকা বাবার জন্য এবং রাজপথে থাকা মেয়ের চোখে একটাই প্রত্যাশা—ভোটাররা আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।



















