লক্ষ্মীপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে ওই মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে মাদ্রাসায় ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গতকাল রাতে ওই শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মাওলানা আব্দুল আহাদ (৪৫)। তিনি পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসার প্রধান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা-৯টার দিকে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন দুপুরে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি বাড়ি ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মাকে জানায় যে, শিক্ষক তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার রাতে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আতঙ্কের কারণে সে আর মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুল আহাদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















