জামাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি:
চলনবিলের মধ্যে অবস্থিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ২৫ নং বাওনজান সেতুতে গতি কমিয়ে পার করছে রেলের পশ্চিম জোনের সবগুলো ট্রেন। সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় ঢাকার সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ। ঢাকার সঙ্গে রেলের পশ্চিম বিভাগের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র পথ বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর রেললাইন।
শত বছরের পুরোনো হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর রেললাইনের বাওনজান রেলসেতু। সেতুর ১৪টি পিলারই দুর্বল। কয়েকটি পিলারের গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে লোহার অ্যাঙ্গেলের কাঠামো। সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ হলেও পানি বেশি থাকায় কাজ প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ।
ঢাকার সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র পথ বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর রেললাইন। এই পথে প্রতিদিন ৩৫টি ট্রেনে যাতায়াত করে প্রায় ৭০-৭৫ হাজার যাত্রী। শত বছরের পুরোনো এই রেলপথে ব্রিটিশদের তৈরি বেশ কিছু রেলসেতু রয়েছে। এর মধ্যে বাওনজান সেতুটির পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভাঙ্গুড়া রেলস্টেশনের মাস্টার আব্দুল মালেক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাওনজান সেতুটি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচলে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ট্রেন যাওয়া-আসার সময় লাল পতাকা দেখিয়ে তা ধীরে যেতে বলা হচ্ছে। ট্রেনগুলো ৮ কিলোমিটার গতিতে পার হচ্ছে।
আব্দুল মালেক আরো জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রেল কর্তৃপক্ষ বাওনজান ব্রীজের পিলারের সংস্কার কাজ শুরু করে। ব্রীজের দুই পাশে চলবিলের বিশাল অংশ রয়েছে। যে অংশটি বর্ষার সময় সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। পানি থাকায় সংস্কার কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।
সেতুটি সংস্কারের কাজ করছে ম্যাক্স আরটিসি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিলে পানি বেশি থাকার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাজু শেখ।
তিনি আরো বলেন, ‘বিলে পানি বেশি থাকায় এখন সংস্কারকাজ করা যাচ্ছে না। প্রায় ৩ মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রীজের প্রতিটি পিলারে লোহার বেষ্টনী সংযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিম বাওনজান সেতু এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।’ এখন শুধু অপেক্ষা পানি কমার।পানি কমার পর দ্রুত কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
ব্রীজটি সংস্কার কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ম্যাক্স আরটিআরএস নামের ঠিকাদারী একটি প্রতিষ্ঠান ব্রীজটি সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন গত প্রায় ৭ মাস ধরে। কিন্তু বন্যার পানি চলে আসায় সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা সত্ত্বেও কাজ করা যাচ্ছে না। তাই কাজ বর্তমানে বন্ধ করা হয়েছে।
কথা হয় বড়াল ব্রীজ রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিয়মিত যাতায়াতকারী ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চৌবাড়ীয়া মাষ্টার পাড়া মহল্লার ইন্জিনিয়ার শেখ সাইফুল আজম শাহীনের সাথে। তিনি বলেন, সড়কপথে যাতায়াতের চেয়ে রেলপথে যাতায়াত অনেক বেশি আরামদায়ক। রেলওয়েতে যাত্রীরা অনেক আরামে বসে যেতে পারেন এবং এর কামরাগুলোতে যে সিট রয়েছে সেখানে দু সারির মধ্যে অনেক জায়গা থাকায় যারা দাঁড়িয়ে যান তারাও স্বাচ্ছন্দ্যে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। সিটে বসে প্রয়োজনে ঘুমাতে বা পড়ালেখা করতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, ট্রেন লাইনে সাধারণত কোনো যানজট থাকে না। সুতরাং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। ট্রেনের লাইনগুলো সাধারণত মসৃণ। যে কারণে যাতায়াতে ঝাঁকি কম লাগে। একটি স্টেশনে এসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় অপেক্ষা করে যাত্রী এবং মালামাল ওঠানামা করার জন্য। যে কারণে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু, মহিলাসহ সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে। গত কয়েক মাস আগে বাওনজান ব্রীজে সংস্কার কাজ শুরু হয়। কিন্তু বন্যার পানি বেশি থাকায় সেই কাজ এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। যার কারণে প্রতিটি ট্রেন নেমে ব্রীজ পার হচ্ছে। কাজ শুরু করার প্রথম দিকে ব্রীজ পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগতো। পরবর্তীতে রেল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয় বাওনজান ব্রীজে ট্রেনের গতি কমিয়ে চললে ট্রেন যাত্রীদের ভয়ের কোন কারণ নেই। সেই থেকেই নিশ্চিন্তে চলাচল করছি।
সরেজমিনে বাওনজান সেতু এলাকায় দেখা গেছে, সেতুর কাছে ট্রেন পৌঁছানোর পর লাল পতাকা টাঙিয়ে ট্রেন থামানো হচ্ছে। ট্রেনচালক নির্ধারিত কাগজে সই করে ৮ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেল সেতু পার হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু পার হওয়ার পর পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মধ্যে থাকা ২৫ নং বাওনজান রেলব্রীজটি সবচেয়ে বড়। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে সেতুটি পুরোনো হলেও ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি নেই। সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গতি কমিয়ে ট্রেন চললে কোনো ভয় নেই



















