দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নং মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের বিরুদ্ধে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষি জমি ও বাড়ির খাজনা আদায়ের নামে নির্দিষ্ট ফি না নিয়ে, বিভিন্ন টালবাহানা করে ইস্যুকৃত রশিদের আড়ালে অতিরিক্ত হারে খাজনা আদায় করেছেন এমন অভিযোগ এনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার ঈশ্বরপুর মৌজার আবুল কাশেম নামে এক কৃষক।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, আবুল কাশেম গত মাসের ২৮ তারিখে ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের নিকট ১৯ বিঘা জমির খাজনা দিতে যান, এসময় ভূমি কর্মকর্তা আবুল কাশেমের নিকট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করে, তার পরের দিন একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা চুড়ান্ত করলে ১৯ বিঘা জমির জন্য খাজনা নিতে রাজি হন ভুমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিন। ২০ হাজার টাকা নিয়ে স্বাক্ষরিত ভূমি উন্নয়ন কর রশিদে আবুল কাশেমের ১৯ বিঘার জমির জন্য খাজনার রশিদ বইয়ে ৩৫৬৩ টাকার রশিদ কাটিয়ে বাকি
১৬ হাজার ৪শ ৩৭ টাকা হাতিয়ে নেন এই ভূমি কর্মকর্তা।
অভিযোগ কারী আবুল কাশেম জানান, রেজাউল মতিন নামে মাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি কর্মকর্তা প্রথমে তার নিকট
১৯ বিঘা জমির খাজনা পরিশোধের জন্য এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দাবি করেন। ভূমি কর্মকর্তাকে এই ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা না দিলে জমির খাজনা নিবেন না বলে জানিয়ে দেন আবুল কাশেমকে। তারপর পরের দিন বাধ্য হয়ে দর কষাকশির মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় খাজনা নিতে রাজি হোন ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিন। কিন্তু খাজনার রশিদ কাটার সময় ২০ হাজার টাকার বদলে রশিদ কাটেন ৩৫৬৩ টাক অতিরিক্ত ১৬ হাজার ৪শ ৩৭ টাকা তার নিকট থেকে হাতিয়ে নেন ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিন ।
ঈশ্বরপুর মৌজার আরেক জমির মালিক আব্দুল সামাদ জানান, তার ৯ বিঘা জমির খাজনার চেক কাটার জন্য ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের কাছে গেলে তিনি ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। ৯০ হাজার টাকা রেজাউল মতিনকে না দিতে পারলে জমির খাজনার চেক কাটবেন না বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন জমির মালিক জানান, ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিন মাত্র কয়েক দিন হলো মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ভাবে মানুষের কাছে অতিরিক্ত টাকার আদায় করতেছেন। জমির খাজনার চেক কাটার জন্য অতিরিক্ত টাকা না দিতে পারলে তিনি জমির মালিকদের সাথে খারাপ আচরণ করছেন।
৮ নং মাহমুদ পুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য গোলাম রসুল জানান, ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের নিকট তিনি গেলে তার সাথেও ভূমি কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করেন। তিনি আরও জানান একজন সরকারি ভুমি কর্মকর্তার এমন আচরণ খুবই দুষ্কর। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দাবি করেন ভুমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক ।
এ বিষয়ে ৮নং মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান সালাউদ্দিন মাসুম বলেন, আমি লোক মুখে শুনেছি তার অনিয়মের কথা তবে এ বিষয়ে আমি নিজে মুঠোফোনে তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল মতিন জানান, স্বাক্ষরিত ভূমি উন্নয়ন কর রশিদে জমির নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী খাজনার চেক কাটানো হয়। স্বাক্ষরিত ভূমি উন্নয়ন কর রশিদের বাহিরে কোন লেনদেন করেন না তিনি। তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়।
এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযোগ কারী এবং ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনকে অফিসে ডেকেছিলাম কিন্তু অভিযোগ কারী অফিসে না আসার কারণে বিষয়টি সমাধান করা যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















