জিয়াউর রহমান নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এন ইউ এস দাখল মাদ্রাসার সভাপতি গোপনে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিতে গিয়ে গণপিটনিতে শিকার হয়েছেন। ১৬ জুন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠানের এক কক্ষে দরজা আটকিয়ে গোপনে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নৈশ প্রহরী নিয়োগের সময় স্থানীয়রা জানতে পেরে তাকে গণপিটনী দিয়েছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গোপিনাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ও মাদ্রসার সুপার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, ডিজির প্রতিনিধি মোঃ ওমর ফারুক,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সেলিম আক্তার ও শিক্ষক প্রতিনিধি মোছাঃ শাহিদা খাতুন গোপণে অধিক টাকার বিনিময়ে ওই নৈশ প্রহরী নিয়োগের চেষ্টা করছিলেন। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম গণপিটনীতে শিকার হন। অতপর তার একজন নিকট আত্বীয়র সহযোগিতায় তিনি গুরুদাসপুর স্ব্যাস্থকমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ স্নিগ্ধা আখতার জানান, নজরুল ইসলামের মাথায় ৬টি এবং বাম কানের লতিতে ৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাম হাতের কুনুই ও ডান হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এবিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগে টাকা পয়সা নেবার প্রশ্নই আসে না। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের চিঠির প্রেক্ষিতেই এ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিলো। হঠাৎ ওই এলাকার রুহুল কুদ্দুস সুমন,মেরাজ,বারেক,হাফিজুল, সায়েদ,সিরাজুল ও সিহাবসহ ১৫ থেকে ২০জন যুবক আমাদেরকে অর্তকিত হামলা চালিয়ে মারপিট করে।
মাদ্রাসার সুপার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিধিমোতাবেক আমরা ওই নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিচ্ছিলাম কিন্ত কতিপয় যুবকের চাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, গোপিনাথপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রমিজুল নামের একজনকে চাকুরি দেওয়ার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন সভাপতি নজরুল ইসলাম। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য আবেদনকারীদের বাঁধার মুখে অবশেষে নিয়োগ পরিক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হন। এতে করে অভিভাবক মহলসহ স্থাানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে সভাপতি পদ থেকে নজরুল ইসলামকে অপসারণেরও দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা আরো জানান,ইতিপুর্বে নজরুল ওই প্রতিষ্ঠানের ৩টি নিয়োগসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য করেছেন।
খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।



















