ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
প্রমিকের সঙ্গে মেয়ের বিয়েতে রাজি ছিলেন না পিতা। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মেয়ে ও মা যুক্তি করে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের দিনক্ষনও ঠিক করে ফেলে। এ কথা জানতে পেরে ক্ষুদ্ধ হন পিতা। পিতাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে ছক কষে মেয়ে, মা ও মেয়ের প্রেমিক। সেই পরিকল্পনা থেকে ঘরের মধ্যে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করে সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট ও ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসনকে। প্রথমে এই হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ড্রেসিং টেবিলের গ্লাসের উপর পড়ে গিয়ে গলা কেটেছে প্রচার করা হলেও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্তে নেমে পরিকল্পিত এই হত্যার রহস্য উন্মোচন করে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম, তার মেয়ে উম্মে সুমাইয়া ইয়াসমিন মিতু ও মেয়ের প্রেমিক কালীগঞ্জ উপজেলার পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাজ্জাত হোসেন চয়নকে সোমবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার রহস্য উন্মোচনের কথা স্বীকার করে কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, গত ১২ জুলাই দুপুরে নিজ বাড়িতে গলাকেটে হত্যা করা হয় মালিয়াট ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনকে। কিন্তু ঘটনার দিন ইউপি সদস্য স্ট্রোক করে শোকেজের গøাসের উপর পড়ে গলা কেটে মারা যান বলে প্রচার করেন হত্যাকারীরা। এরপর স্থানীয়রা তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করা হয়। তিনি আরো জানান, এর আগে ইউপি সদস্যের মেয়ের মিতুর বিয়ে হয়েছিল। কিছুদিন সংসার করার পর তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর তার মেয়ে উম্মে সুমাইয়া ইয়াসমিন মিতু পাশের গ্রাম পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের সাজ্জাত হোসেন চয়নের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের বিয়ের কথাও চলছিল। কিন্তু ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বিয়েতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হতো। এরই জের ধরে গত বুধবার (১২ জুলাই) তাকে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহত’র ভাই আব্দুল আজিজ মন্ডল ইউপি সদস্যের স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের প্রেমিককে আসামি করে গতকাল মঙ্গলবার মামলা করেন। মামলার আগেই সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মালিয়াট গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়েছে।


















