স্কলারশীপ নিয়ে নিউজিল্যান্ডে চলে যাবে বর। বিয়ে করে কনেকে নিয়ে যাবে সেখানে। এমন কথায় বিশ্বাস করে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে নিবন্ধন ছাড়াই বিয়ে দেয় পরিবার। কিছুদিন পর পূর্বের প্রেমিকের সাথে যোগাযোগের অজুহাতে অপবাদ ছড়িয়ে বরের পরিবারের কাছে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে থাকে ছাত্রী।
বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে আসলে বর দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রতিশোধ নিতে তার (ছাত্রী) বান্ধবীদের ম্যাসেঞ্জারে নগ্ন ছবি পোষ্ট করে, সেই সাথে ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমনটাই অভিযোগ করছে ওই ছাত্রী। বিচার না পেলে আত্মহত্যারও হুমকি দিচ্ছেন তিনি।
ওই ছাত্রীর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা এলাকার একটি মহল্লায়।
এ ঘটনায় ছাত্রী ও তার বাবা-মা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ ঘটনায় রবিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।গতকাল রবিবার নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সংগঠন ঘাসফড়িংয়ের সদস্যদের সহায়তায় ওই ছাত্রী এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে। এ সময় সাথে তার বাবা-মাও উপস্থিত ছিলেন।
মেয়ের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে মা শুরুতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, গত বছরের ১৩ জুলাই কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মো. কাওসার হৃদয়ের (২৭) সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। মেয়েকে তারা বাল্যবিবাহ দিয়েছিলেন। বিয়ের আগে কাওসার তাদের জানিয়েছিল সে স্কলারশীপ নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পড়ছে। তাদের পক্ষে কাওসারের ওই পরিচয় যাচাই-বাছাই করার উপায় ছিলনা।ছাত্রীর বাবা জানায়,বিয়েতে তার মত ছিল না। তবে বাবা-মায়ের কথা ভেবে রাজী হয়েছিল। পরে জানতে পারেন কাওসার বিয়ের সময় ভুয়া পরিচয় দিয়ে তার মেয়ের জীবনটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। এরপরও মানসম্মানের কথা ভেবে সবকিছু চাপা দিয়ে ছিলেন। কিন্তু কাওসারের প্রতারণার বিষয়টি তার মেয়ে কখনও মেনে নিতে পারেনি। সে প্রতিবাদ জানাতে থাকলে কাওসার ও তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। এক পর্যায়ে কাওসার আরেকটি বিয়ে করে। এ ঘটনার পর দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে পড়ে। মেয়ে এখন তার বাড়িতে রয়েছে।
ছাত্রীটি জানায়, তার এক বান্ধবী গত শনিবার তাকে ফোনে জানায়, তার একটি আপত্তিকর ছবি তার (বান্ধবী) ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এসেছে। বান্ধবী তাকে প্রশ্ন করে এ ধরনের ছবি পাঠাচ্ছিস কেন? পরে আরও কয়েকজন বান্ধবীর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি পাঠানো হয়েছে বলে জানতে পারে সে। এ ধরনের ছবি পাঠানোর ঘটনা তার বাবা-মাও জেনে ফেলেন। পরে কোনো উপায় না দেখে সে তার বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ করে।
জানা যায় কাওসার হৃদয় ঈদের আগেই সৌদি আরবে চলে গেছে। পরে তার ভাইয়ের কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করলে হৃদয় জানান, তিনি এই বিয়েতে রাজী ছিলেন না। তারপরও পরিবারের কথায় রাজি হন। কিছুদিন যেতেই জানতে পারেন তার স্ত্রী পূর্বের প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে এবং গোপনে দেখা স্বাক্ষাৎও করছে। এ অবস্থায় তাকে বাবার বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। নগ্ন ছবি পোষ্ট করার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এবং আমার পরিবার এ ধরনের কর্ম করিনি। প্রমান হলে শাস্তি পেতে প্রস্তুত।