সাব্বির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার,
দেশে অন্যান্য সম্মানজনক পেশার মধ্যে “সংবাদকর্মী” একটি মহৎ পেশা হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। শুধু তাই নয় ছাত্র জীবন থেকেও শুনে আসছি সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। একজন সংবাদ কর্মীর কাজ হলো, সকল কিছুর নির্বিশেষে নিরপেক্ষ হয়ে সুষ্ঠ, সঠিক তথ্য সবার নিকট উপস্থাপন করা। কিন্তু কিছু সংবাদকর্মী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপন করে সবচেয়ে সম্মানজনক পেশাকে প্রতিনিয়ত অসম্মান করে যাচ্ছে। বিশ্ব সত্যতা গড়ে ওঠার পেছনে পত্রিকা প্রকাশনা শিল্প অতিগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ইতঃপূর্বে দেখা গেছে যে, দেশপ্রেমিক, সাহিত্যিক, কলমযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীরাই পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনা করতেন। দেশের জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিরা পত্রিকা প্রকাশনা করতেন, যাদের ছিল রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং জাতির প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা, তারা পত্রিকাকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেননি, প্রশ্রয় দেননি হলুদ সাংবাদিকতাকে, বরং গণমানুষের অধিকার আদায়, দেশ ও জাতির মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কলমযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। কলম ধরেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের বিরুদ্ধে যারা জনগণ ও জনগণের প্রাপ্য সম্পদ চকলেটের মতো চুষে চুষে খায়। এখন বিত্তশালীরা যাদের মিডিয়া জগতে কলম ধরার অভিজ্ঞতা নেই, দু’কলম লেখার যোগ্যতা নেই তারাও স্বনামে বেনামে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক প্রভৃতি হয়ে যাচ্ছে। অন্য দশটি বৈধ বা অবৈধ ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য, সমাজে ভাবমূর্তি সৃষ্টি করার জন্য, প্রশাসনকে ভয়-ভীতিতে রাখার জন্য পত্রিকা ছাপিয়ে সরকারের গুণগান গেয়ে, অন্য দিকে কেউ তাদের অপকর্মের দিকে আঙ্গুল তুলে তাকালে হলুদ সাংবাদিকদের ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও হয়নি। স্মরণ রাখা দরকার যে, লাইসেন্স বা পত্রিকার ডিক্লারেশন, খাস জমির লিজ প্রভৃতি সংশ্লিষ্ট নাগরিকের প্রতি সরকারের একটি প্রিভিলেজ মাত্র। পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে এগুলোর গ্রাস করা আইনসম্মত নয় বরং আইনের চরম লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যদিও সরকার ঘরানার ব্যক্তিদের আইনের মুখামুখি হতে হয় না, আইন শুধু কার্যকর সরকারবিরোধী মতাদর্শীদের ওপরে। পত্রিকার ব্যবসাটি অপেশাদার, ব্যবসায়ী শ্রেণীর হাতে চলে যাওয়ায় এখন হলুদ সাংবাদিক গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের একটি রেওয়াজ মিডিয়া জগতে শুরু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে যারা হলুদ সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এমন ঘটনা রয়েছে যে, একটি মিথ্যা রিপোর্ট ড্রাফট করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থাৎ যার বিরুদ্ধে ছাপা হবে তাকে দেখিয়ে বলা হয় যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে পত্রিকায় নিউজ ছাপিয়ে দেবো।’ এভাবে চলে টাকা আদায়ের কলাকৌশল। এই ব্যক্তিরা কোথাও ধরা পড়েছে, কোথাও ধরা পড়েনি। প্রতিপক্ষের টাকায় প্রভাবিত হয়ে ওরা যখন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি মিথ্যা নিউজ দেবে, তখন হয়তো সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাইবে এবং টাকা না পেলে আপনার মুখ দিয়ে একটি উল্টো কথা পত্রিকায় ছাপা অক্ষরে প্রকাশ পাবে, যা আপনি কাউকে বলেননি। অনেক পত্রিকায় প্রকাশক ও মালিক ভূমিদস্যুতা, মানিলন্ডারিং প্রভৃতি ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা তাদের প্রতিপক্ষকে দমানোর জন্য পত্রিকাটিকে পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে যেমন খুশি তেমনিভাবে ব্যবহার করছে। অনেকে পেশাদার সম্পাদক নিয়োগ দিলেও সম্পাদক সাহেবদের হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধ করার হয়তো সুযোগ হয় না। যারা পত্রিকায় সুন্দর সুন্দর কথা বলেন তারাও হলুদ সাংবাদিকতার সংস্কৃতি বন্ধের প্রচেষ্টা চালান না বা দাবি জানান না। অথচ এ কারণে গোটা সাংবাদিক সমাজ দায়ী হয়ে যাচ্ছেন অন্যায়ভাবে। একজন সংবাদকর্মী বলেন, হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করতে আন্ডারগ্রাউন্ড সিন্ডিকেটের গণমাধ্যমগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপসাংবাদিকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


















