সাইফুল ইসলাম,কর্ণফুলী উপজেলা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে ৫০তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৩ ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন হয়েছে।
লেখাপড়া বা শরীর চর্চার ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ ঘটে। যদি কোন শিক্ষার্থী সর্বদাই লেখাপড়ায় মগ্ন থাকে এবং শরীর চর্চা বা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা তার জন্য খুবই ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর এ কারণেই পড়ালেখা করার পাশাপাশি অবশ্যই খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
খেলাধুলা না করলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে না। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর অবস্থায় অবশ্যই আউটডোরে যেতে হবে, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতেই হবে। সুতরাং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর জন্য শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। কোন শিক্ষার্থী যখন নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করবে তখন তার মেধা শক্তি বৃদ্ধি পাবে। পরিশ্রম করলে, শরীর ঘেমে যায় এর ফলে অধিক পরিমাণে অক্সিজেন মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে। আর মস্তিষ্কে অধিক পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করার ফলে মেধা শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর তাই শিক্ষার্থীদের উচিত হবে, পড়ালেখার পাশাপাশি এই নিয়মিত খেলাধুলা করা।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ মঙ্গলবার বিকাল তিন ঘটিকায় উপজেলার কালারপোল হাজী ওমরা মিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বোধনী খেলা অনুষ্টিত হয়। উক্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব, মোঃ মামুনুর রশীদ। কর্ণফুলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব, বাবুল চন্দ্র নাথ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কালারপোল হাজী ওমরা চৌধুরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব পলাশ সেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জনাব মজিবুল হক সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক/শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এইখেলা সারাবাংলাদেশে ৮-১২সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলী উপজেলার ১১টি স্কুল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ফুটবল খেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দলকে পিচনে পেলে ফাইনাল আসরে খেলার সুযোগ করে নেই আছিয়া মোতালেব রিজিয়া নাছরীন উচ্চ বিদ্যালয় নারী ফুটবল দল ও মরিয়ম আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় নারী ফুটবল দল । অপর দিকে – কালারপোল হাজী ওমরা চৌধুরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পুরষ ফুটবল দল ও ফয়জুলবারী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা পুরুষ ফুটবল দল।
উক্ত ফুটবল ফাইনাল খেলায় মরিয়ম আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়কে ০-১ গোলে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনেন আছিয়া মোতালেব রিজিয়া নাছরীন উচ্চ বিদ্যালয় নারী ফুটবল দল। অপর দিকে ফয়জুলবারী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ফুটবল দলের সাথে তুমুল লড়ায় করে বিজয় ছিনিয়ে আনে কালারপোল হাজী ওমরা চৌধুরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যাল ফুটবল দল। পরে ৫০তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মামুনুর রশীদ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্রনাথ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
এর আগে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন করেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মামুনুর রশীদ।
ছাত্রছাত্রীদের প্রধান কাজ হল পড়াশুনা করা । পড়াশুনাকে তপস্যার মতো করেই করা দরকার । তবে পড়াশুনার সাথে সাথে শরীরচর্চা ও খেলাধূলার বিশেষ প্রয়োজন আছে । কারণ অসমর্থ ও দুর্বল শরীরে কখনো ভালো পড়াশুনা হয় না । এই প্রসঙ্গে তরুণদের উদ্দেশ্যে স্বামীজী বলেছেন “গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে ।” ফুটবল খেলা অর্থাৎ নিয়মিত খেলাধূলা মন ও শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখে একথা সবাই স্বীকার করে ।
খেলাধূলা শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে অনাবিল আনন্দ দেয় তা নয়, চরিত্রের বিকাশও ঘটায় । খেলাধূলা থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলার বোধ জাগে যা চরিত্র গঠনে বিশেষ প্রয়োজনীয় । দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, দলবদ্ধ ভাবে কাজ করার মানসিকতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা বোধ খেলাধূলা থেকেই জন্ম নেয় । এই সব মানবিক মূল্যবোধ একজন প্রকৃত নাগরিকের একান্ত প্রয়োজন । এছাড়া খেলাধূলায় হার ও জিত অবশ্যম্ভাবী, কখনও একপক্ষ জয়লাভ করে আর অন্যপক্ষ হারে । এই সাফল্য ও ব্যর্থতার ধারণা সহজে গ্রহণ করার শিক্ষা পাওয়া যায় খেলাধুলা থেকে । এই শিক্ষা পরবর্তী জীবনে সহজে সাফল্য বা ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতে পারে সবাই ।
সুস্থ শরীরের জন্য নিয়মিত খেলাধূলা ও শরীরচর্চা প্রয়োজন এ কথা আমরা সবাই স্বীকার করি । খেলাধূলার মাধ্যমে শরীর সুগঠিত হয় এবং নৈতিকতা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও ভাতৃত্ববোধের জন্ম হয় । এইসব গুণের বিকাশের মধ্যে দিয়েই তৈরি হয় একজন প্রকৃত মানুষ । আধুনিক সমাজে তাই খেলাধূলার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে । বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধূলার ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকেও এ বিষয়ে আরো বেশি নজর দিতে হবে।



















