চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে কৃষিজমি ভরাটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ—জামায়াতপন্থী কয়েকজন ব্যক্তি প্রায় ১০০ একর কৃষিজমিতে বালু ফেলার চেষ্টা করলে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীরা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সবাইকে ডেকে এনে তাঁদের প্রতিরোধ করে। পরে জড়ো হওয়া লোকজন জামায়াত নেতাদের ধাওয়া দিয়ে এলাকাছাড়া করেন।
ঘটনাটি ঘটে সীতাকুন্ড উপজেলার সৈয়েদপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় সূত্র জানায়,কুমিরা ইউনিয়নের জামায়াত নেতা জসিমউদ্দিন এবং সীতাকুন্ড পৌরসভার সাবেক কমিশনার রোহানউদ্দিন মেশিন ও শ্রমিক নিয়ে একটি আওয়ামী লীগ নেতার কেনা কৃষিজমিতে বালুভরাট শুরু করতে আসেন। এলাকার মানুষ দ্রুত বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গ্রামবাসীরা মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেন,সবাই মাঠে নামেন, কৃষিজমি রক্ষায় আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে তারা একযোগে জামায়াত নেতাদের তাড়া করলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রামবাসীদের দাবি,কৃষিজমি ভরাটের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন আবশ্যক। তারা বলেন, “এটা যে-কারো জমি হোক, কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট হলে আমরা বসে থাকবো না।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত আমজনতার তারেক রহমান—এর কৃষকের ন্যায্য অধিকার বিষয়ে বক্তব্যও ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তারেক রহমান সম্প্রতি আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়ান। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতপন্থী কিছু গ্রুপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গ করে স্লোগান তোলে—“আলু না গণভোট”—যা কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা বলেন, কৃষক ও আমজনতার স্বার্থ নিয়ে ব্যঙ্গ–বিদ্রূপ করার পর আবার কৃষিজমি দখলের চেষ্টা—এসব কারণে গ্রামবাসীর ক্ষোভ আরও বিস্ফোরিত হয়েছে। যে লোকজন কৃষকের কথা শুনে হাসাহাসি করে, তারা আবার কৃষকের জমি নষ্ট করতে আসে—এটা সহ্য করা যায়? এমন মন্তব্য করেন এক গ্রামবাসী।
ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা আরও ঘনীভূত হয়। জামায়াত নেতাদের ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তৎপরতা—এসবও মানুষের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
মাইকিং করে গ্রামবাসীর এমন সম্মিলিত প্রতিরোধ সীতাকুন্ডে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষায়—“কৃষকের বিরুদ্ধে কিছু হলে আমরা সবাই রাস্তায় নামবো। আমজনতার পাশে জনগণ সবসময় থাকে।


















