নাটোরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এক তরুণীর নীরব কিন্তু দৃঢ় স্বপ্নের নাম সুমাইয়া ইসলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যিনি বেছে নিয়েছেন সৃজনশীল ও প্রাকৃতিক এক পথ—অর্গানিক মেহেদি। তার উদ্যোগ “ Sumaiya’s organic henna ” আজ শুধু একটি ফেসবুক পেজ নয়; এটি পরিশ্রম, ধৈর্য আর আত্মনির্ভরতার এক জীবন্ত গল্প।
২০২৪ সালের শেষ দিকে আমরা নাটোরের উদ্যোক্তা ফোরাম –এর একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম তার উদ্যোক্তা যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা। এরপর খুব অল্প সময়েই তিনি ফোরামের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিজেকে যুক্ত করেন এবং নিয়মিত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে নিজের ভাবনা, স্বপ্ন ও শ্রমকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন।
নাটোর শহরেই তার বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবন। বর্তমানে তিনি নাটোর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত। শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শুদ্ধ রুচির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে তার শান্ত, মনোযোগী ও সৃজনশীল মানসিকতা—যা তার কাজের মধ্যেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
শখ থেকেই শুরু। ঈদ, বিয়ে কিংবা বিশেষ আয়োজনে নারীদের প্রথম পছন্দ—মেহেদি। নিজের আগ্রহ, পর্যবেক্ষণ আর হাতের দক্ষতা মিলিয়েই তিনি গড়ে তুলেছেন sumaiya’s organic henna। এখানে মেহেদি শুধু একটি পণ্য নয়, বরং অনুভূতির প্রকাশ। প্রতিটি মেহেদি কোনে থাকে যত্ন, নিখাদ উপাদান আর ভালোবাসার ছোঁয়া।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি তৈরি করছেন—
অর্গানিক মেহেদি কোন
নখের মেহেদি
মেহেদি তৈরির প্রয়োজনীয় সকল উপাদান

প্রতিটি কাজেই রয়েছে নান্দনিকতা ও প্রাকৃতিকতার প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ। রাসায়নিকমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ পণ্য সরবরাহ করাই তার মূল লক্ষ্য।
সুমাইয়ার শক্তির জায়গা
তিনি বিশ্বাস করেন—নিজের হাতে তৈরি কিছু দিয়ে অন্যের বিশেষ দিনকে রাঙিয়ে তোলাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। অসাধারণ ডিজাইন করার দক্ষতা, সৃজনশীল উপস্থাপনা, গ্রাহকের চাহিদা বোঝার ক্ষমতা এবং পরিবার ও পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা সামলানোর দৃঢ় মনোবল তাকে একজন সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আলাদা করে তুলে ধরেছে।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
সুমাইয়ার লক্ষ্য পরিষ্কার। তিনি চান, sumaiya’s organic henna–কে নাটোরের অন্যতম বিশ্বস্ত অর্গানিক মেহেদি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে প্রোডাকশন, নিজস্ব শোরুম এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গড়ে তোলার স্বপ্ন তিনি লালন করছেন।
আমরা নাটোরের উদ্যোক্তা ফোরাম বিশ্বাস করে—এমন উদ্যোগই আগামী দিনের স্থানীয় অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত করবে। একজন নারী যখন নিজের স্বপ্নকে কাজে রূপ দেন, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; তা সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
সুমাইয়ার এই যাত্রা প্রমাণ করে—হাতের ছোঁয়ায় সৌন্দর্য তৈরি হলে, রঙে রঙে আত্মনির্ভরতাও সম্ভব।



















