১২ বছর ধরে শিকলবন্দী এক জীবনের গল্প: প্রেমে ব্যর্থতার পর মানসিক ভারসাম্য হারানো মামুনের পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা
রুবেল সরদার, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের আইচার হাওলা গ্রামের এক নিভৃত ঘরে যেন থমকে আছে সময়, সেখানে শিকলবন্দী হয়ে কাটছে এক যুবকের জীবন—সাইদুল ইসলাম মামুন; একসময় যে ছিল স্বপ্নভরা, মেধাবী আর সবার প্রিয়, সেই মামুনই আজ নিঃশব্দে বন্দী নিজের ভাঙা পৃথিবীতে। প্রায় ২০ বছর আগে বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর নিয়মিত ছাত্র ছিলেন তিনি; পড়াশোনায় ভালো, ভদ্র স্বভাবের এই ছেলেটির জীবনেও এসেছিল ভালোবাসা, কিন্তু সমাজ সেই ভালোবাসাকে মেনে নেয়নি—এক সহপাঠীর সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হলে চাপ সৃষ্টি করে তাদের আলাদা করে দেওয়া হয়, আর সেই বিচ্ছেদই ধীরে ধীরে ভেঙে দেয় মামুনকে; হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য, একসময় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অসহায় পরিবার বাধ্য হয়ে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে—একদিন নয়, দুইদিন নয়, টানা ১২ বছর। মামুনের মা সোনাবান বেগমের চোখে এখনো স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেজা কান্নায় ডুবে; দিনমজুর স্বামী জমিজমা বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছেন, দালালের মাধ্যমে পাবনায় পাঠিয়েও হয়েছেন প্রতারণার শিকার, এখন অবশিষ্ট শুধু ভাঙা একটি ঘর আর শিকলবন্দী এক জীবন। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে মামুনের খোঁজ নিতে ছুটে আসেন তার স্কুলজীবনের বন্ধুরা—এসএসসি ২০০২ ব্যাচের সহপাঠীরা; তারা শুধু খোঁজই নেননি, নিয়ে এসেছেন ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর আশার আলো—নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন এবং পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। সহপাঠী মো. আল-আমিন চিশতি আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “মামুন খুব মেধাবী ছিল, কখনো ভাবিনি এমন দিন আসবে—বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব, আমরা চাই সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাইম খান, শরফুদ্দীন সবুজ, হাওলাদার সবুজ, তারেক, আবুল বশার, রাসেল খান, সোহেল ঘরামি, রাশিদুল হক রনি, কাওসার হাওলাদার, মিতুসহ আরও অনেকে; তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যারা এটিকে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন—এখন শুধু অপেক্ষা, কোনো একদিন কি এই শিকল ভেঙে আবারও মুক্ত আকাশে ফিরবে মামুন?



















