বাবুগঞ্জে রাজকর গ্রামে মাদকসেবীদের জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন, গ্রামবাসীর একাট্টা অবস্থান
বাবুগঞ্জ (বরিশাল)প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাজকর গ্রামে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মাঝের বাড়ির উঠানে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটায় সামাজিক অস্থিরতা, তরুণ সমাজের অবক্ষয় এবং পারিবারিক উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ ও অভিভাবকদের উদ্যোগে জরুরি এই সভার আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মাদকসেবীদের আড্ডা জমে মিয়া বাড়ীর ঠোটা এলাকা, খান বাড়ীর কালভার্ট এলাকা, বারেক ফকির বাড়ীর পানের বড়, বাদশা বাড়ীর নিচু অংশ এবং ফকো ডাক্তার বাড়ীর মাছের ঘের এলাকায়। বিকাল ও রাতের দিকে এসব স্থানে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বহু কিশোর-তরুণ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রহমতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার। তিনি বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি স্থানীয়দের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি মাদকবিরোধী গ্রাম প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হিসেবে খলিল হাওলাদার, বারেক ফকির, আলাউদ্দিন খান, মাহাতাব মিয়া, আলামিন খান, শাহাবুদ্দিন খান, মুক্তা হাওলাদার, কাউসার হাওলাদার, মজিবর হাওলাদার, আক্কাস হাওলাদার, হিমু, হানিফ খান, আনোয়ার, সন্তান হাওলাদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এতে আলাউদ্দিন খানকে সভাপতি, মিরাজ হাওলাদারকে সহ-সভাপতি এবং বারেক হাওলাদারকে সদস্য সচিব করা হয়।
নবগঠিত কমিটি এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার দায়িত্ব পালন করবে।
সভায় এক অসহায় পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে আগে ভালো ছিল, লেখাপড়াও করতো। এখন মাদকের কারণে মানুষ চিনতে পারে না। আমি রাত জেগে পাহারা দিই, তবুও তাকে বাঁচাতে পারছি না।”
তার এই বক্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, ছেলেকে ইতোমধ্যে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছেন যাতে সে মাদকের প্রভাব থেকে দূরে থাকতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র এলাকায় মাদক ছড়িয়ে তরুণদের বিপথে নিচ্ছে। এ কারণে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নবগঠিত কমিটি শিগগিরই নিয়মিত উঠান বৈঠক, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও কঠোর নজরদারি কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজকর গ্রাম ধীরে ধীরে মাদকমুক্ত সমাজে পরিণত হবে।
এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



















