শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালী এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল বাসার আত্মহত্যা করেছেন। তার পরিবারের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের শোকজ নোটিশ পেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে তিনি উপজেলা সদরের গোপালপুর এলাকার ভাড়া বাসায় গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এসময় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিমের নেতৃত্বে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী গ্রামের মরহুম এন্তাজ আলী গাজীর ছেলে আবুল বাসার কৈখালী এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
সদ্য গঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ শোকজ করার ঘটনায় মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে।
তবে, পরিচালনা পর্ষদের দাবি, আগের কমিটি বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা নিলেও তাদের চাকুরী দেয়নি। নিয়োগ বঞ্চিতদের টাকা ফেরত দিতে না পারার ঘটনায় তিনি এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
নিহতের ভাই মোঃ আবুল খায়ের জানান, গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের কারণে গত কয়েক দিন ধরে তার ভাই ছুটিতে ছিলেন। আকস্মিকভাবে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরিত একটি শোকজ নোটিশ হাতে পান। সেখানে অর্থ তসরুফের অভিযোগ এনে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন চাকুরী প্রার্থীর নিকট হতে আদায় হওয়া প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা ফেরত না দিলে তাকে চাকুরীচ্যুত করার হুমকি দেয়া হয়।
আবুল খায়ের আরও জানান, শোকজন নোটিশ প্রাপ্তির পর থেকে তার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে বুধবার দুপুরে দুই ছেলে নানার বাড়ি ও স্ত্রী অসুস্থ স্বামীর ঔষধ কিনতে বাসার বাইরে যাওয়ার সুযোগে তিনি গলায় দড়ি দেন। এঘটনায় তারা সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করবেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, আগের কমিটির কাছে টাকা দিয়ে চাকুরী না হওয়া কয়েকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়।
তবে পূর্বেকার কমিটির সভাপতি সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়ায় পর চাকুরী বঞ্চিতদের টাকা ফেরত দেয়া নিয়ে প্রধান শিক্ষক বেকায়দায় পড়েন। টাকা দিয়েও চাকুরী না পাওয়া প্রার্থীরা সম্প্রতি টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ঘটনার দায় তার উপর চাপাতে চেষ্টা করছে বলেও তিনি
দাবি করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি প্রাক্তন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, বর্তমান সভাপতি প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সরাতে নানান ষড়যন্ত্র করছে। আবুল বাসারকে অপসরাণসহ মামলার হুমকি দিয়ে শোকজ করার মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল জানান, পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবার এঘটনায় অভিযোগ করলে পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।


















