স্টাফ রিপোর্টারঃ
অবশেষে ঢাকা গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে হারিয়ে আসা ঈশিতা নামের ১৮ বছরের মেয়েটির পিতা-মাতার সন্ধান মিলেছে।
গত ১৪ জানুয়ারি খুলনা সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার আদুরে একটি মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রাস্তা দিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে স্থানীয় কতিপয় কিছু সামাজিক ছেলে পেলে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে মেয়েটির ছবি ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়েদেয়। পাশাপাশি ফেসবুকও অনলাইন গণমাধ্যমের সহযোগিতায় পোস্টটি ভাইরাল করা হলে খুলনার অন্যতম মানবিক সংগঠন উই আর বাংলাদেশ সোশ্যাল মাধ্যমের কর্ণধর ইয়াসিন আকবরের দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর নিকট বিষয়টি ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন মেয়েটি আমাদের এখানে নেই।
অতঃপর বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজির পরে মেয়েটির সন্ধান মিলে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রূপসা এলাকায়। এবং সেখান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের অধীনে রেখে মেয়েটির পরিচয় জানার জন্য বিভিন্ন কৌশলে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে মেয়েটি মানুসিক ভারসাম্যহীন থাকা অবস্থায় কোন পরিচয় উই আর বাংলাদেশের সংগঠনের কোন সদস্যকে দিতে দিতে পারেনি।
মেয়েটির ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে দ্রুত ভাইরাল হওয়ার কারণে খুলনার আরও দুইটি মানবিক সংগঠন ব্লাড ব্যাংক ও ফুড ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসে এখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
পাশাপাশি খুলনার স্থানীয় ঢাকার জাতীয় অনেক গণমাধ্যমে কর্মীরা সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে সাথে সাথে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা সহ অনলাইন মিডিয়ায় বিষয়টি ছড়িয়ে দিলে গতকাল ২০ জানুয়ারি রাত দশটার দিকে ঈশিতার বাবা-মা তাদের মেয়ের গণমাধ্যমে ছবি দেখে চিনতে পেরে সাথে সাথে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা করে এসে খুলনার অন্যতম তিনটি মানবিক সংগঠন উই আর বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাঙ্কও ফুড ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিকট এসে পরিচয় দেন আমরা ঈশিতার বাবা-মা।
ঈশিতা আমাদেরই মেয়ে ঈশিতা ঢাকা বসুন্ধরা সিটির একটি দোকানে কর্মচারী।
সে গত ১৪ জানুয়ারি ডিউটিতে আসার পরে আর সে বাসা বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার কারণে আমরা বিভিন্নভাবে ঈশিতাকে খোঁজাখুজি করলেও তার কোন সন্ধান না পাওয়াতে এক পর্যায় গাজীপুর থানায় তার নামে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
তাতে করে ঈশিতার কোন খোঁজ খবর না পেয়ে ঈশিতার মা এক পর্যায়ে শয্যাশায়ী হওয়ার উপক্রম হয়।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে আমার নিকটতম আত্মীয়ের ছেলে তার মোবাইলে একটি পোস্ট আসে ঈশিতার ছবিসহ খুলনার উই আর বাংলাদেশে নামক একটি পেজ থেকে।
আর এই পোস্টটি দেখার সাথে সাথেই আমরা আর দেরি না করে ঈশিতার মা ও নীকটতম দুই এক জন আত্মীয়-স্বজন নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে আপনাদের এখানে এসেছি।
এবং আপনাদের একান্ত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আমাদের বুকের ধন ফিরে পেয়েছি বলে খুলনার সামাজিক তিনটি সংগঠনকে তারা ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন খুলনার মানুষ এত ভালো যে আপনাদের মানবিক চেষ্টার কারণে আমাদের মেয়েকে কোন অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ছাড়াই ফিরে পেয়েছি।
ঈশিতার বাবা-মা খুলনার মানবিক তিনটি সংগঠন সহ খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এস আই সুকান্তর জন্য পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিনের নিকট দুহাত তুলে দোয়া প্রার্থনা করে তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
এদিকে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে আজ ২০ জানুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত আমরা খুলনার তিনটি সংগঠন ও খুলনার প্রশাসনের সহযোগিতায় মেয়েটিকে সুন্দর সুষ্ঠুভাবে ঈসিতার বাবা মার হাতে তুলে দিতে পেরে খুলনার মানবিক তিনটি সংগঠন উই আর বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাংক ও ফুড ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরম করুণাময়ের কাছে শুকরিয়া জানিয়ে নিজেদের খুব গর্বিত মনে করছেন।
তাছাড়া যে কোন মানুষের দুর্যোগও দুর্দিনের সহযোগী হিসেবে তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে পাড়ার জন্য নিজেদেরকে আরো সক্রিয় অবস্থানে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন এই তিনটি মানবিক সংগঠনের কর্মকর্তাগণ।


















