শাহজাহান আকন্দ,মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
কাপাসিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ভাওয়াল এলাকার লাল মাটির টিলা কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ভূ-বৈচিত্র।এতে বিলুপ্ত হচ্ছে সেখানকার গ্রামীন বনজঙ্গল। নির্বিচারে উৎপাটিত হচ্ছে ঝোপঝাড়।ফলে ভাওয়ালের জীব বৈচিত্র বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে ও পরিবেশের বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ভাওয়াল এলাকার লাল মাটির টিলা অধ্যুষিত স্থানসমূহে কতিপয় মৃত্তিকালোভীর দৌরাত্ম চলছে।তাদের হাতে ধ্বংস হচ্ছে মনোমুগ্ধকর লাল মাটিরটিলা (আঞ্চলিক ভাষায় ‘টেক’) ও গ্রামীন বনজঙ্ল ও ঝোপঝাড়। এরা ভূমি মালিকদের আর্থিক লোভের টোপে ফেলে বশ করে ভাওয়ালের রাঙ্গা মাটির অনিন্দ্য সুন্দর টিলা এবং এর বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড় সমূলে উৎপাটন করে চলেছে।এতে এলাকার উঁচুনীচু টিলা যেমন ভূ-বৈচিত্র হারাচ্ছে তেমনি উজাড় হচ্ছে গ্রামীন বনাঞ্চল।ফলে সেখানকার পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।সেই সাথে আবাস হারাচ্ছে গ্রামীন বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের সাপ,বেজী,গুইসাপের মতো সরিসৃপ ও শেয়াল,বনবেড়াল,বাঘডাশা,
সজারু,গন্ধগোকূলের মতো বুনো বাসিন্দারা।পাখ পাখালীরাও হারাচ্ছে তাদের বসতি।ফলে প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যহত হয়ে দ্রুত বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভাওয়ালের এসব বন্য সরিসৃপ ও পশুপাখী।এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র এস্কেভেটর দিয়ে নির্বিচারে এসব লাল মাটির টিলা কেটে অন্যত্র পাচার করে যাচ্ছে। চক্রটির রাজনৈতিক ছত্রছায়া রয়েছে বলেও জানা গেছে। সম্প্রতি কাপাসিয়ার কামারগাঁও,গাঁওরার,চেংনা ও কীর্তনিয়া,ভিকারটেক,কুশদী এলাকা ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে এসব মাটিখেকোদের তান্ডবের দগদগে ক্ষত প্রত্যক্ষ করা গেছে।নির্বিচারে টিলা কর্তন করে ও বনজঙ্গল ধ্বংসের মাধ্যমে ভাওয়ালের ভূ-বৈচিত্রের দ্রুত বিনাশ ও পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি রীতিমতো বিস্ময়কর।এ ব্যাপারে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম গোলাম মুর্শেদ খানের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়।তিনি এ প্রসঙ্গে জানান,প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এসবের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ অব্যহত রেখেছে। আর তা ভবিষ্যতেও সর্বদা অব্যহত থাকবে।পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর অফিসের উপ পরিচালক মো: নয়ন মিয়া এ প্রসঙ্গে জানান,বিষয়টি তার জানা নেই।তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
মোঃ শাহজাহান আকন্দ
মনোহরদী, নরসিংদী।
ফোন:০১৭১৬৭৭৪৬২৭



















