দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবনকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের আওতায় সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো সংস্কার, নিরাপত্তা জোরদারসহ সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন পরিদর্শন শেষে এসব কথা জানান শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
তিনি বলেন, “উত্তরা গণভবনকে প্রস্তুত রাখা আমাদের দায়িত্ব। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিটি সরকারের অন্তত একটি সভা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। বহু বছর অবহেলায় থাকার পর ভবনটিকে আমরা নতুনভাবে প্রস্তুত করেছি, যাতে যেকোনো রাষ্ট্রীয় সভা ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।”
ঐতিহাসিক এই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালাটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। নানা সময় গুরুত্বপূর্ণ সভা ও নীতিনির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্র হলেও দীর্ঘ অবহেলায় ভবনটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। শিল্প উপদেষ্টা জানান, অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধন, অতিথিকক্ষ সংস্কার, সভাকক্ষ আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন—সবখানেই চলমান সংস্কারকাজ প্রায় শেষের দিকে।
পরিদর্শনকালে শিল্প উপদেষ্টা দেশের চিনি বাজার ও উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে, তাই বর্তমানে বিদেশ থেকে চিনি আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।
“এখন বিদেশি চিনি আমদানি বন্ধ। আমাদের চিনিকলগুলোর উৎপাদিত চিনি আগে বাজারজাত হবে। টিসিবির মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা থাকে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে পণ্যটি পায়,”—বলেন তিনি।
চিনিকলগুলোকে লাভজনক করতে উৎপাদন ব্যবস্থায় বহুমুখীকরণ জরুরি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ইথানল, মোলাসেস, পশুখাদ্যসহ বিভিন্ন উপপণ্য উৎপাদন বাড়ানো হলে চিনিশিল্প দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আখের ঘাটতি, পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকারি চিনিকলগুলো কয়েক বছর ধরে লোকসানে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প মন্ত্রণালয় চিনিকল আধুনিকায়ন, চাষিদের প্রণোদনা বৃদ্ধি ও উৎপাদন বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, নতুন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে চিনিশিল্প আবারও প্রতিযোগিতায় টিকে দাঁড়াবে।
পরিদর্শনকালে শিল্প উপদেষ্টা গণভবনের নিরাপত্তা, সিসিটিভি স্থাপন, আলোকসজ্জা উন্নয়ন, বাগান সংস্কারসহ বিভিন্ন চলমান কাজ ঘুরে দেখেন। ভবিষ্যতে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে উন্নয়নকাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওহাবসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গণভবনের সার্বিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
নাটোরবাসীর কাছে উত্তরা গণভবন শুধু একটি সরকারি স্থাপনা নয়—এটি একটি গৌরবের প্রতীক। তারা আশা করছে, গণভবনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় অর্থনীতি, পর্যটন এবং নাগরিক সুবিধায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



















