নিখোঁজের ৫ দিন পর নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় একটি বাড়ির আঙ্গিনায় মাটির ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা প্রেমিক শাহীন শাহ (৪০) হত্যার ঘটনায় প্রেমিকা হোসনে আরা (৩৫) ও তার চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলে সন্তানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার উপজেলার জলন্দা গ্রামে পরকীয়া প্রেমিকার নিজ বাড়ি থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হোসনে আরা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জলন্দা গ্রামের প্রবাসী আইয়ুব আলীর স্ত্রী। নিহত শাহীন শাহ নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের দস্তানাবাদ এলাকার মোজাহার আলীর ছেলে ও নাটোর কোর্টে উকিলের মুহুরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ মাস আগে নাটোর কোর্টে তিন সন্তানের জননী হোসনে আরার সঙ্গে মহুরী শাহীনের পরিচয় হয়। এরপর থেকেই তারা উভয়েই পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে চলমান পরকীয়া সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে হোসনে আরা হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট পরকীয়া প্রেমিক শাহীন শাহকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর হোসনে আরা তাকে চেতনানাশক ঔষধ মিশ্রিত খাবার খাওয়ালে অচেতন হয়ে পড়েন শাহীন। পরে হোসনে আরা প্যান্টের বেল্ট দিয়ে শাহীনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফিরোজ শাহ বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত হোসনে আরা ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করবে বলেও জানান পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।



















