জামাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার বেড়া পৌর এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আর এ শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে অশ্লীল নাচ-গান, জুয়া আর মাদকের রমরমা ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। সামনের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়েও শঙ্কিত অভিভাবকরা।
প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হলেও মানা হচ্ছে না মেলার বিধি-বিধান ও শর্ত। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব কর্মকাণ্ড। কয়েক দিন আগেই ওই মেলার পাশ থেকে র্যাব ১০৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।
মেলায় রাত গভীর হলেই শুরু হয় অশ্লীল নাচ-গানের আসর। এ ছাড়া লটারির নামে প্রতি রাতেই জুয়ার আসর বসিয়ে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, জেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে জনমত সৃষ্টির জন্যই এ মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে
বেড়ার সাবেক ছাত্রনেতা ও ছাত্র অভিভাবক সোহাগ হোসেনের অভিযোগ, আয়োজকরা বাণিজ্য মেলার অনুমতি নিয়ে লটারি, মাঝেমধ্যে জুয়া ও পুতুলনাচের আড়ালে অর্ধনগ্ন নৃত্য পরিবেশন করছে। আশপাশে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি স্কুল-কলেজ রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চমাত্রার মাইক ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ছাড়া মেলায় ওয়ানটেন ও চরকা খেলা হচ্ছে। গ্রামের শত শত যুবক এই জুয়ার আসরে এসে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নিষেধ রয়েছে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে যাত্রা বা সার্কাসের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠে আয়োজিত মেলার বিষয়ে মেলার স্বত্বাধিকারী আরিফ ও রাসেদুল হক রাসু বলেন, ‘রাত ১০টার পরে মেলায় মাইক বাজানো হয়। তবে শব্দ যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার চেষ্টা করছি।’ তিনি জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য হচ্ছে না বলে দাবি করেন।
জুয়া ও লটারি খেলা নিয়ে বেড়া সার্কেলের এএসপি কল্লোল কুমার দত্ত বলেন, ‘আমি স্টেশনের বাইরে ছিলাম। এমন অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
বেড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র তারেক হোসেন অশ্লীল নৃত্য আর পুতুলনাচের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘মেলায় সার্কাস চলছে। সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’


















