বরিশাল-৩: কারাবন্দী তিনবারের সাবেক এমপি টিপুর পক্ষে ভোট চাইছেন কন্যা হাবিবা কিবরিয়া
রুবেল সরদার, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
কারাবন্দী পিতার মুক্তির প্রত্যয় ও ন্যায়বিচারের আকুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন হাবিবা কিবরিয়া। তিনি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপুর কন্যা। বাবার কারাবাসের কারণে তিনি নিজেই সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা বাজারে গণসংযোগকালে আবেগঘন কণ্ঠে হাবিবা কিবরিয়া বলেন,
“আমার বাবা কোনো অপরাধী নন। তিনি আজ কারাগারে থাকলেও তাঁর হৃদয় পড়ে আছে বাবুগঞ্জ–মুলাদীর মানুষের কাছে। তিনবার আপনারাই তাঁকে সংসদে পাঠিয়েছেন, কারণ তিনি আপনাদের ভালোবাসতেন এবং আপনাদের জন্য কাজ করতেন।”
তিনি আরও বলেন,
“আজ আমি কন্যা হয়ে নয়, একজন অসহায় সন্তান হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আপনাদের একটি ভোটই পারে আমার বাবাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আবার জনগণের কাতারে ফিরিয়ে দিতে।”
এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হাবিবা কিবরিয়া বাবুগঞ্জ–মুলাদী এলাকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনবারের সংসদ সদস্য হিসেবে গোলাম কিবরিয়া টিপু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক–সেতু, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন,
“বাবা মুক্ত হয়ে আবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করবেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণে তাঁর বাবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি দ্রুত সেতুটির উন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গণসংযোগকালে তিনি বাবার মুক্তির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে পাশে থাকার জন্য ভোটারদের প্রতি আকুল আবেদন জানান।
এ সময় জাতীয় পার্টি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। খানপুরা বাজারসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
নেতাকর্মীরা বলেন, জনগণের এই আবেগী সাড়া প্রমাণ করে—গোলাম কিবরিয়া টিপু আজ কারাগারে থাকলেও বরিশাল-৩ আসনের মানুষের হৃদয়ে তিনি এখনো মুক্ত।


















