২০০১ সালের পর দেশে আর প্রকৃত নির্বাচন হয়নি : ব্যারিস্টার ফুয়াদ
রুবেল সরদার, বাবুগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি : ২০০১ সালের পর বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল একটি ইঞ্জিনিয়ার্ড নির্বাচন, ২০১৪ সালে একতরফা ভোট, ২০১৮ সালে ভোট হয়েছে রাতে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল ডামি। এসব কারণে ভোটকে কেন্দ্র করে যে আমেজ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা থাকার কথা, তা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।
শুক্রবার দিনভর বাবুগঞ্জ উপজেলার নিজ ইউনিয়ন মাধবপাশার গোয়ালবাথান, বীরপাশা ও মাধবপাশা বাজারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “এখন অনেক মানুষ প্রশ্ন করছে—আদৌ ভোট হবে কি না। কানে কানে অনেকে বলছে, শেষ পর্যন্ত ভোট বন্ধ হয়ে যাবে কি না। গত ২৪ বছরে ভোটের প্রতি মানুষের যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে, ভোটারদের আবার ভোটমুখী করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গ্রামাঞ্চলে একটি ‘ভোটার মাস্তানি’ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। প্রত্যেক গ্রাম ও ওয়ার্ডে কিছু দুষ্ট লোক চায়ের দোকানে বসে হুমকি দিচ্ছে—কে কেন্দ্রে যাবে আর কে যাবে না, তা নজরদারি করা হচ্ছে। যারা তার পক্ষে ক্যাম্পেইন করছে, তাদের মোটরসাইকেল আটকে চার দোকানে নিয়ে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি “এখন তো নির্বাচন করবা, আমরা তো ক্ষমতায় আসবো পরে এলাকায় কিভাবে থাকো দেখবো”—এমন ভাষায় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে কাজ করছে—এমন লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাজানো মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনে থাকা তরুণ ছেলে-মেয়েরা এখন ভোট করতে বাড়ি আসায় তাদেরও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে, অনেককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগরপুর ইউনিয়নের বাজারে একটি দলের নেতা প্রকাশ্যে হুমকি দিতে গিয়ে লুঙ্গির নিচ থেকে অস্ত্র পড়ে গেছে, যা বাজারের অনেক মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি বলেন, “এই এলাকায় কারা ইয়াবা ব্যবসা করে, কার বাড়িতে অস্ত্র ও গুলি আছে, কারা চরে গিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়—সব তথ্য আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”
ভোটারদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “গত ৫৪ বছরে যারা রাজনীতি করেছেন, তাদের আমলনামা দেখুন। তাদের কাজের হিসাবের সঙ্গে আমার আমলনামা মিলিয়ে দেখুন। আমার আচার-আচরণ, রাজনীতি ও উন্নয়নের খতিয়ান মিলিয়ে বিচার করুন। গত এক বছরে আমি কয়েক হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বাবুগঞ্জ–মুলাদী এলাকায় আনতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি বলেন, “এই খতিয়ান মিলিয়েই জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নেবে।”
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান অলিদ, উপজেলা সেক্রেটারি ও সিনিয়র আইনজীবী রুহুল আমীন খায়ের, আ. ছালাম মাঝি, এবি পার্টির বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক সুজন তালুকদার, জেলা মহানগর সদস্য সচিব জিএম রাব্বীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমির ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।



















