https://www.facebook.com/shirsokhabor/
শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. আরও
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরীর খবর
  11. জেলার খবর
  12. জোকস
  13. টপ টেন
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দুর্ঘটনা

বরিশাল-৩ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ধানের শীষ–লাঙ্গল–ঈগলে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ

প্রতিবেদক
Rubel Sardar
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ইপেপার দেখুন

বরিশাল আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ধানের শীষলাঙ্গলঈগলে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ

রুবেল সরদার, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ঈগল প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। প্রতিটি প্রার্থী ভিন্ন কৌশল ও আবেগের ভোটকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান এবং একাধিকবার নির্বাচিত বার কাউন্সিলের সভাপতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তার পক্ষে রয়েছে বাবুগঞ্জ ও মুলাদীজুড়ে বিশাল ও সংগঠিত কর্মী বাহিনী, যা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী সভায় তিনি অভিযোগ করেছেন, গত সতেরো বছরে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে তিনি অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলেও বর্তমানে তিনি কারাবন্দি। তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কন্যা হাবিবা কিবরিয়া ফারিয়া। তিনি দিন-রাত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বাবার কারাবন্দি অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের আবেগ ও সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে লাঙ্গল শিবির। এছাড়া পূর্ববর্তী মেয়াদে করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটব্যাংক ধরে রাখার কৌশলও নেওয়া হয়েছে।

ঈগল প্রতীকের প্রার্থী, দশ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত এক বছরে এলাকায় করা উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। নতুন ভোটার ও নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, জামায়াতে ইসলামী সুসংগঠিতভাবে এবি পার্টির প্রার্থী ফুয়াদকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছে এবং নীরব ভোটের মাধ্যমে ভোটে চমক সৃষ্টি করতে পারে।

এই তিন প্রধান প্রার্থীর পাশাপাশি হাতপাখা প্রতীকের সিরাজুল ইসলাম, ট্রাক প্রতীকের ফারদিন ইয়ামিন এবং মই মার্কা প্রতীকের আজমুল জিহাদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মূল লড়াই ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ঈগল প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বাবুগঞ্জ–মুলাদী এলাকা সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় ভোটারদের চলাচল ও প্রচারণার ধরনেও এর প্রভাব পড়ছে।

নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়— ২০০৮ সালের নির্বাচনে গোলাম কিবরিয়া টিপু পেয়েছিলেন ৬৬,৪৬৩ ভোট, বিএনপির বেগম সেলিমা রহমান পেয়েছিলেন ৬০,০৫১ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নুল আবেদীন পেয়েছিলেন ২০,০৪৮ ভোট।
২০১৪ সালের নির্বাচনে (ওয়ার্কার্স পার্টি), অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান পান ৩৫,৬০২ ভোট এবং জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু পান ২৩,০৪৭ ভোট।
২০১৮ সালের নির্বাচনে গোলাম কিবরিয়া টিপু ৫৪,৫৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জয়নুল আবেদীন পান ৪৭,২৩৫ ভোট এবং টিপু সুলতান পান ১৮,১৯৬ ভোট।

এর আগে হিজলা–মুলাদী আসন (১৯৯১–২০০১) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন মোশররফ হোসেন মঙ্গু। বাবুগঞ্জ–মুলাদী আসনে ১৯৯১ সালে রাশেদ খান মেনন (ওয়ার্কার্স পার্টি), ১৯৯৬ সালে গোলাম ফারুক (জাতীয় পার্টি) এবং ২০০১ সালে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (বিএনপি) নির্বাচিত হন।

ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাবুগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯২১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৫ জন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই এককভাবে এগিয়ে নেই। দলীয় শক্তি, আবেগের ভোট এবং উন্নয়নের দাবির ত্রিমুখী সমীকরণই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে নীরব ভোটার ও নতুন ভোটারদের সিদ্ধান্ত এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৩ আসনে ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ঈগল প্রতীকের ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে—তা জানতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত