কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে ইপিজেড কর্মী ফারজানা আক্তার প্রিয়া (২২)। শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাত ১০ টার দিকে হত্যার ৩ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, বড়াইগ্রামের মেরিগাছা এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো. লকি উদ্দিন (৪২) ও একই গ্রামের মো. আব্দুল মমিনের ছেলে মো. বুলবুল আহম্মেদ (৩৫)। উপজেলার নগর ইউনিয়নের মেরিগাছা এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং ঈশ্বরদী ইপিজেড এর শ্রমিক ফারজানা আকতার প্রিয়াকে শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়।
শনিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সহ হত্যার সাথে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
নাটোরের নবাগত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ফারজানা আক্তার প্রিয়া পাবনা জেলার ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকুরী করেন। প্রতিদিন তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে একই এলাকার মোঃ লকি উদ্দিন প্রতিদিনই প্রিয়াকে উত্যাক্ত করতো এবং কু-প্রন্তাব দিত। ভিকটিম প্রিয়া তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে আসামি মো. লকি উদ্দিনকে একাধিকবার মানা নিষেধ করে। এতে মোঃ লকি উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয় প্রিয়ার ওপর এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
মোঃ লকি উদ্দিন এর কু-প্রস্তাবে প্রিয়া রাজি না হওয়ায় একই এলাকার মোঃ বুলবুল আহম্মেদসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের সাথে প্রিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। ৪ জুলাই সন্ধ্যা অনুমান ৭ টার দিকে প্রিয়া কাজ শেষে ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত আনুমানিক ৮ টা ১০ মিনিটের সময় বড়াইগ্রামের কয়েন বাজারে বাস থেকে নেমে আসামী মোঃ বুলবুল আহম্মেদ এর ব্যাটারি চালিত ভ্যানে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পথে মশিন্দা বিলের মাঝখানে চৌরাস্তা পৌঁছামাত্র পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা আসামী লকি উদ্দিন সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ভ্যানের সামনে দাঁড়ায় এবং জোরপূর্বক প্রিয়াকে ভ্যান থেকে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা মাঠে জনৈক মোঃ আঃ মতিনের পাটক্ষেত ও জনৈক মোঃ ফুলবার এর ধান ক্ষেতের পূর্ব পশ্চিম আইলে নিয়ে যায়। এসময় মোঃ লকি উদ্দিন তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রিয়ার মুখে, গলায়, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের মাধ্যমে প্রিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাাম সার্কেল) এর সমন্বয়ে পুলিশের একটি টিমের পরিকল্পনায় এবং তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে ফোর্সদের সমন্বয়ে গঠিত টিম তথ্য প্রযুক্তি সহায়তা এবং বিশ্বস্থ্য সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত লকি উদ্দিন ও বুলবুল আহম্মেদকে মেরীগাছা গ্রাম থেকে ঘটনা ঘটার ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত লকি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্থফা সামছুজোহা ও ফারজানা আক্তার প্রিয়ার প্রতিবেশী আব্দুস সালাম জানান, রংপুর এলাকার অনি নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রিয়ার বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। তবে পারিবারিক কলহের কারণে বেশ কিছুদিন থেকে প্রিয়া মেরিগাছা গ্রামের বাবার বাড়িতে থেকে ঈশ্বরদী ইপিজেডে কাজ করতেন। চার দিন আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় কাজ শেষ হলে তিনি ইপিজেড থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েন বাজারে বাস থেকে নেমে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে চড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে মশিন্দা বিলের মাঝখানে চৌরাস্তা এলাকায় পৌছালে কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক ভ্যান থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশসহ এলাকাবাসী খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিলের একটি পাটের ও ধানের জমির আইলে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে প্রিয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম সহ পরিবারের লোকজন প্রিয়ার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন
বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আশা করছি দ্রুতই আসামী গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।



















